
দেশের ৭৫টি কারাগারে অনুমোদিত ধারণক্ষমতার তুলনায় ১ দশমিক ৭ গুণ বেশি বন্দি আটক রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। অতিরিক্ত বন্দির কারণে কিছু কারাগারে আবাসন সংকট তৈরি হলেও তা নিরসনে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৪ আসনের এনসিপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. আবুল হাসনাতের উত্থাপিত এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরের ৭ জুন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৫টি কারাগারে অনুমোদিত বন্দি ধারণক্ষমতা ৪৫ হাজার ১৩৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দির জন্য ৪৩ হাজার ১০৭টি এবং নারী বন্দির জন্য ২ হাজার ২৯টি আসন রয়েছে।
তবে বর্তমান বাস্তবতায় এসব কারাগারে মোট ৭৭ হাজার ৪০ জন বন্দি আটক রয়েছেন। এর মধ্যে পুরুষ বন্দির সংখ্যা ৭৪ হাজার ৩৬ জন এবং নারী বন্দি ২ হাজার ৭৭ জন। অর্থাৎ নির্ধারিত ধারণক্ষমতার চেয়ে প্রায় ৩১ হাজার ৯০৪ জন বেশি বন্দি রয়েছে দেশের কারাগারগুলোতে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন, অতিরিক্ত বন্দি থাকায় দেশের কিছু কিছু কারাগারে আবাসন সমস্যা দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা সমাধানে সরকার নতুন কারাগার চালু ও অবকাঠামো সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে বিশেষ কেন্দ্রীয় কারাগার (কেরানীগঞ্জ), সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২, ফেনী জেলা কারাগার-২ এবং খুলনা জেলা কারাগার-২ আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হয়েছে। এছাড়া কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগার-২, মাদারীপুর জেলা কারাগার-২ এবং পিরোজপুর জেলা কারাগার-২ খুব শিগগিরই চালু করা হবে। সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও জামালপুর কারাগার পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি নরসিংদীতে নতুন জেলা কারাগার নির্মাণের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
তিনি বলেন, এসব নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণকাজ শেষ হলে কারাগারগুলোর বন্দি ধারণক্ষমতা আরও ২ হাজার ৯৫৫ জন বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে দেশের মোট বন্দি ধারণক্ষমতা বেড়ে দাঁড়াবে ৪৮ হাজার ১৩১ জনে। কারাগারের ওপর চাপ কমাতে ভবিষ্যতেও প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে সরকার কাজ করবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
আপনার মতামত লিখুন :