জবাই করতে নেওয়া হচ্ছিল চুরি করা শত শত বিড়াল, অতঃপর…


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৭, ২০২৬, ৭:৫৯ অপরাহ্ণ
জবাই করতে নেওয়া হচ্ছিল চুরি করা শত শত বিড়াল, অতঃপর…

ভিয়েতনামে মাংসের জন্য জবাই করতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এমন ৪০০-এর বেশি বিড়াল উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। একই সঙ্গে বিড়াল চুরি ও পাচারের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের নয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রাণী কল্যাণ সংস্থা ‘হিউমেন ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেল’। দেশটির হো চি মিন সিটি পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে বিড়াল চুরি, সংগ্রহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ চক্রের সন্ধান পায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পরে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

পুলিশ জানায়, গত সপ্তাহে তাই নিন প্রদেশ এবং হো চি মিন সিটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় ৪০০-এর বেশি জীবিত বিড়াল উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি বরফে সংরক্ষিত অবস্থায় প্রায় ৮০টি মৃত বিড়ালও পাওয়া গেছে। এছাড়া অন্য একটি স্থান থেকে আরও ২১টি বিড়াল জব্দ করা হয়।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১১ জুন হো চি মিন সিটিতে একাধিক পোষা প্রাণী চুরির ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে পুলিশ এই চক্রের সন্ধান পায়। তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রায় তিন বছর ধরে দক্ষিণ ভিয়েতনামের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিড়াল ধরে এনে নির্দিষ্ট স্থানে জমা করত। পরে প্রতি দুই থেকে তিন দিন পরপর ব্যবসায়ীদের কাছে এসব প্রাণী বিক্রি করা হতো।

ভিয়েতনামে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়া আইনত নিষিদ্ধ নয়। তবে এসব প্রাণীর বৈধ উৎসের প্রমাণপত্র থাকা বাধ্যতামূলক। আইন অনুযায়ী, অবৈধভাবে প্রাণী সংগ্রহ ও পাচার করলে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

প্রাণী কল্যাণ সংস্থা ‘হিউমেন ওয়ার্ল্ড ফর অ্যানিমেল’ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিড়ালগুলোর মধ্যে অন্তত ৪০টিকে ইতোমধ্যে তাদের প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নির্যাতন ও দীর্ঘদিন অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার কারণে কিছু প্রাণী পরে মারা গেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রাণীগুলোর জন্য খাবার ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যাদের পোষা বিড়াল হারিয়েছে বা চুরি হয়েছে বলে সন্দেহ রয়েছে, তাদের উদ্ধার হওয়া প্রাণী শনাক্ত করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

প্রাণী কল্যাণ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর ভিয়েতনামে প্রায় ৫০ লাখ কুকুর ও ১০ লাখ বিড়াল ধরে আনা, চুরি, পাচার এবং মাংসের জন্য জবাই করা হয়। এসব প্রাণী ধরতে অনেক সময় ফাঁদ, বিষমিশ্রিত খাবারসহ নিষ্ঠুর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটিতে কুকুর ও বিড়ালের মাংস খাওয়ার বিরুদ্ধে সচেতনতা বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম ও পোষা প্রাণীর মালিকদের মধ্যে এ ধরনের ব্যবসার বিরোধিতা ক্রমেই শক্তিশালী হচ্ছে।