
ইরানের সঙ্গে প্রস্তাবিত সমঝোতা স্মারক সইয়ের উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন রাজনৈতিক চাপে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিরোধী শিবিরের সমালোচনার পাশাপাশি এবার নিজ দলের প্রভাবশালী কট্টরপন্থি নেতাদের বিরাগভাজনও হয়েছেন তিনি। চুক্তির শর্তাবলী নিয়ে অস্বচ্ছতা এবং সম্ভাব্য ছাড় দেওয়ার অভিযোগে রিপাবলিকান ঘরানার অনেক নেতাই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রস্তাবিত এই চুক্তি যদি সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলের পরমাণু চুক্তির মতো দুর্বল বলে বিবেচিত হয়, তাহলে তা ট্রাম্পের রাজনৈতিক অবস্থানের জন্য বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে তিনি নিজেই একসময় ওই চুক্তির কঠোর সমালোচনা করে তা বাতিল করেছিলেন।
সমালোচকদের প্রধান অভিযোগ, চুক্তির মূল শর্ত ও সমঝোতা স্মারকের বিস্তারিত এখনো জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। এ কারণে রক্ষণশীল মহলে সন্দেহ ও অসন্তোষ বাড়ছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি সমঝোতার দিকে এগোচ্ছে, যা অতীতে বাতিল করা নীতিরই পরিবর্তিত সংস্করণ হতে পারে।
রক্ষণশীল গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মার্ক লেভিন চুক্তির বিষয়ে অস্বচ্ছতার সমালোচনা করেছেন। একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক ভাষ্যকার ও বিশ্লেষকরাও। তাদের মতে, ইরানকে বেসামরিক কাজে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সুযোগ দেওয়া এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচির ওপর কঠোর বিধিনিষেধ না থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কৌশলগত দুর্বলতা তৈরি করতে পারে।
এদিকে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, এমন কোনো চুক্তি কার্যকর করতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন প্রয়োজন। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও চুক্তির বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়ে মার্কিন স্বার্থ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একদিকে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে জনসমর্থন ধরে রাখতে চাইছেন, অন্যদিকে নিজের রাজনৈতিক ভিত্তির মধ্যেই সন্দেহ ও অসন্তোষের মুখোমুখি হচ্ছেন। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এ বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—রিপাবলিকান সমর্থকদের বড় অংশ যদি মনে করেন যে ট্রাম্প অতীতে সমালোচিত নীতির পুনরাবৃত্তি করছেন, তাহলে ইরান ইস্যুতে তার কূটনৈতিক উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :