
সিলেট অঞ্চলের চা বাগানের নারী শ্রমিকদের ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে পেরেছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া কথা অনুযায়ী চা বাগানের নারী শ্রমিকদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী এক বছরের মধ্যে চা বাগানের প্রায় সব নারী শ্রমিকের হাতে এ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুরে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
বক্তব্যের শুরুতেই তারেক রহমান বলেন, “আমি আমার কথা আজকে রাখতে পেরেছি। চা-বাগানের যারা নারী শ্রমিক আছেন, তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দিয়েছি। হয়তো আজকে সবাইকে দিতে পারিনি, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আগামী এক বছরের মধ্যে আমরা চা-বাগানের সকল নারী শ্রমিকের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেবো।” অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ১০টি পরিবারের নারী প্রধানের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। পরে কম্পিউটারের বোতাম চেপে ফ্যামিলি কার্ড তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।
এ সময় চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন সহায়তার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। চা শ্রমিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে কয়েকজন শ্রমিককে ঘর নির্মাণের জন্য দুই লাখ টাকা করে অনুদান, চা শ্রমিক সন্তানদের জন্য বৃত্তি এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা সহায়তার চেক প্রদান করা হয়।
তারেক রহমান বলেন, দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের জন্য নারী-পুরুষ সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে। নারীদের স্বাবলম্বী করা ছাড়া দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তন করা।
তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে কষ্টের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। ধীরে ধীরে তাদের জীবনমান উন্নয়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পাশাপাশি কৃষকদের সহায়তায় আগামী এক বছরে দেশের ৪০ লাখ কৃষকের হাতে ‘কৃষক কার্ড’ তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশ হচ্ছে আমাদের প্রথম ঠিকানা, বাংলাদেশই হচ্ছে আমাদের শেষ ঠিকানা। আমাদের একটাই কাজ—বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা।” জনসভায় সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা এবং স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :