প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসছে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসছে

দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে দীর্ঘমেয়াদি একটি রূপরেখা বা ভিশন নির্ধারণ করেছে সরকার। বিশ্বমানের যোগ্য নাগরিক তৈরি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং প্রাথমিক শিক্ষাকে কর্মমুখী ও প্রযুক্তিনির্ভর করার লক্ষ্য নিয়ে সাজানো হয়েছে এই মহাপরিকল্পনা।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) ঢাকার র‌্যাডিসন ব্লু ঢাকা ওয়াটার গার্ডেন-এ ‘ক্যামব্রিজ ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন’ আয়োজিত ‘ক্যামব্রিজ প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট বাংলাদেশ লিমিটেড’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এসব পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের ক্ষেত্রে চারটি মূল স্তম্ভকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো—কারিকুলামের আধুনিকায়ন, শিক্ষকদের মানোন্নয়ন, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরি এবং বিভিন্ন শিক্ষা ধারার মধ্যে সমন্বয়। এর পাশাপাশি নতুন উপাদান হিসেবে যুক্ত হচ্ছে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে মাদ্রাসা, বাংলা মাধ্যম, ইংরেজি মাধ্যম ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ২৭টির বেশি ভিন্ন ভিন্ন শিক্ষা ধারা রয়েছে। এসব ধারার মধ্যে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে দেশের প্রতিটি শিশু মৌলিক জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পায়। এর মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষায় বিদ্যমান বৈষম্য কমানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিক্ষার মান উন্নয়নে শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে ববি হাজ্জাজ বলেন, যোগ্য শিক্ষক ছাড়া কোনো কার্যকর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব নয়। দেশের বিপুলসংখ্যক প্রাথমিক শিক্ষকের জন্য বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে ক্যামব্রিজের শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর বিষয়ে আলোচনা চলছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির দিকে নজর দেওয়া হবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের এমনভাবে গড়ে তোলা হবে, যাতে তারা পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, ঢাকাস্থ ব্রিটিশ হাইকমিশন এবং University of Cambridge-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।