১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ৪:৩০ অপরাহ্ণ
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধ করছে যুক্তরাজ্য

শিশু-কিশোরদের অনলাইন নিরাপত্তা জোরদারে ১৬ বছরের কম বয়সীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য সরকার। একই সঙ্গে গেমিং এবং সরাসরি সম্প্রচারভিত্তিক বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপরও নতুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স। প্রস্তাবিত নীতির আওতায় স্ন্যাপচ্যাট, টিকটক, ইনস্টাগ্রামসহ জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এমন গেমিং ও অনলাইন সেবাগুলোও অন্তর্ভুক্ত হতে পারে, যেখানে শিশুদের অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, শিশুদের শৈশব সুরক্ষিত রাখা এবং তাদের নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার সুযোগ নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, “এটি একটি বড় পরিবর্তন হবে, তবে শিশুদের জন্য আরও নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।”

তবে তিনি স্বীকার করেন, এ ধরনের বিধিনিষেধ বাস্তবায়ন করা সহজ হবে না এবং এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। সরকারের প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউটিউব, ফেসবুক এবং এক্স এই নীতির আওতায় আসতে পারে। তবে হোয়াটসঅ্যাপ ও সিগন্যালের মতো বার্তা আদান-প্রদানের সেবাগুলোকে এই বিধিনিষেধের বাইরে রাখা হতে পারে।

এদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের মতে, কঠোর নিষেধাজ্ঞা কিশোর-কিশোরীদের নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত প্ল্যাটফর্ম থেকে দূরে সরিয়ে কম নিয়ন্ত্রিত বা ঝুঁকিপূর্ণ অনলাইন পরিবেশের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ইউটিউব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে বয়স উপযোগী ব্যবহারব্যবস্থা এবং কিশোর-কিশোরীদের জন্য স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা সুবিধা উন্নয়নে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেন, তরুণ ব্যবহারকারী, শিক্ষক এবং অভিভাবকদের জন্য ইউটিউব একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষামূলক ও তথ্যভিত্তিক মাধ্যম।

অন্যদিকে, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা বলেছে, তাদের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কিশোরদের অনলাইন সম্প্রদায় ও সহায়ক যোগাযোগব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারে। একই ধরনের উদ্বেগ জানিয়েছে স্ন্যাপচ্যাট কর্তৃপক্ষও। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সুরক্ষার উদ্যোগ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে বয়সভিত্তিক ব্যাপক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে এবং এর অনাকাঙ্ক্ষিত প্রভাব কী হতে পারে, সে বিষয়ে এখনো পর্যাপ্ত গবেষণালব্ধ প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাজ্যে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।