সাজ্জাদের পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ৩:১৩ অপরাহ্ণ
সাজ্জাদের পরিবেশবান্ধব উদ্ভাবনে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস

পরিত্যক্ত সবজি ও কলাগাছের তন্তু ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব পলিথিন, টাইলস ও ঢেউটিনসহ বিভিন্ন পণ্য উদ্ভাবন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা কুড়িয়েছেন মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের তরুণ উদ্ভাবক সাজ্জাদুল ইসলাম।

রোববার (১৪ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাজ্জাদুল ইসলাম ও তার বাবা মো. নজরুল ইসলাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তার উদ্ভাবনী গবেষণা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তার গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের রাষ্ট্রীয় সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার আশ্বাস দেন।

সাজ্জাদুল ইসলাম মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের মোহাজেরাবাদ এলাকার কৃষক মো. নজরুল ইসলাম ও সাহেরা খাতুনের ছেলে। দুই বোনের মধ্যে তিনি বড়। তিনি ২০২৫ সালে শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

তরুণ এই উদ্ভাবক জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সাল থেকে তার পরিচালিত গবেষণা ‘কলাগাছের তন্তু থেকে ঢেউটিন ও টাইলস’ সম্পর্কে অবগত ছিলেন। সাজ্জাদুল ইসলাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গিয়ে আমার গবেষণা ও এর সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছি। প্রধানমন্ত্রী গবেষণার কাজ চালিয়ে যেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও উৎসাহ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।”

তিনি আরও জানান, তার উদ্ভাবনকে এগিয়ে নিতে স্টার্টআপ ও প্রয়োজনীয় অর্থায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আইসিটি বিষয়ক উপদেষ্টা রিহান আসিফ আসাদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রমে যুক্ত হওয়ার জন্য শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর সঙ্গে কাজ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া দেশে প্রতিষ্ঠিত ইকো-ফাইবার কোম্পানি পরিদর্শন এবং বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সাজ্জাদুল ইসলামের দাবি, পরিত্যক্ত সবজি, শ্বেতসার ও পচনশীল উপাদান ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব পলিথিন তৈরি করা সম্ভব। একইভাবে কলাগাছের তন্তুকে বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করে টাইলস, প্লাস্টিক, কার্বন ও সিলিকন পণ্যের বিকল্প হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নানা ধরনের পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি করা যায়। তিনি জানান, তার উদ্ভাবিত প্রযুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যতে বুলেটপ্রুফ দরজা-জানালার মতো শক্তিশালী পণ্যও তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। তরুণ এই উদ্ভাবকের আশা, যথাযথ সহযোগিতা পেলে তার গবেষণা দেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও শিল্প খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।