
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কেওয়া বাজার সংলগ্ন এলাকায় তিনটি শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য ও বিষাক্ত পানি নির্গমনের কারণে মারাত্মক পরিবেশগত সংকট দেখা দিয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে ওই দূষিত পানি সরাসরি কৃষিজমিতে প্রবেশ করায় প্রায় ৩০০ বিঘা জমিতে ধানসহ কোনো ধরনের ফসল আবাদ করা সম্ভব হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয় কৃষকদের।
ভুক্তভোগীদের দাবি, নিক্কি থাই, পারটেক গ্রুপ এবং একটি চায়না গার্মেন্টস কারখানার অপরিশোধিত কেমিক্যাল মিশ্রিত বর্জ্য পানি শোধন ছাড়াই আশপাশের কৃষিজমিতে ফেলা হচ্ছে। এর ফলে জমির উর্বরতা নষ্ট হয়ে গেছে এবং সেখানে ফসল, সবজি বা ঘাস কিছুই উৎপাদন হচ্ছে না।
স্থানীয় কৃষক আফাস মোল্লা বলেন, দূষিত পানির সংস্পর্শে ত্বকে চর্মরোগসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিচ্ছে। বাধ্য হয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে জমিতে চাষাবাদ বন্ধ রেখেছেন। তার ভাষায়, “প্রায় ৩০০ বিঘা জমি অনাবাদি পড়ে আছে, আমরা চরম সংকটে আছি।”
এদিকে, সঠিক নিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে দূষিত পানি মাওনা-শ্রীপুর সড়কেও ছড়িয়ে পড়ছে, যার ফলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহনকে ধীরগতিতে চলতে হচ্ছে, এতে নিয়মিত তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা দ্রুত এই পরিবেশগত বিপর্যয় নিরসনে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। একইসঙ্গে তারা সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে বাধ্যতামূলকভাবে বর্জ্য শোধনাগার (ETP) চালু ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। দাবি পূরণ না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, অপরিকল্পিত শিল্পায়ন ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তারা পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, অন্যথায় এলাকাটি ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি ও কৃষি বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
আপনার মতামত লিখুন :