
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ নামে পরিচিত ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখার স্বপ্ন থাকে বিশ্বের কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর। তবে ভিসা জটিলতা, ভ্রমণ ব্যয় ও আবাসন খরচের কারণে সেই সুযোগ পান খুব কম সংখ্যক দর্শক।
২০২৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ দেখে ফিরতে চাইলে ভিসা, বিমান ভাড়া, ম্যাচের টিকিট, থাকা-খাওয়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে একজন দর্শকের ব্যয় হতে পারে কয়েক লাখ টাকা।
সাধারণ হিসাবে, ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ দেখে তিন রাত অবস্থান করে দেশে ফিরতে খরচ হতে পারে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা। তবে ফাইনাল দেখতে গেলে এই খরচ ১০ লাখ টাকারও বেশি হতে পারে।
ভিসার খরচ ও জটিলতা
বিশ্বকাপ দেখতে যুক্তরাষ্ট্রে যেতে বাংলাদেশি দর্শকদের পর্যটন ভিসার প্রয়োজন হবে। ভিসা আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফি প্রায় ১৮৫ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা বন্ডের নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। এর আওতায় ৫ হাজার থেকে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ফেরতযোগ্য অর্থ জমা দিতে হতে পারে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করা বিশ্বকাপের টিকিটধারীদের জন্য কিছু ক্ষেত্রে এই নিয়ম শিথিল হতে পারে।
বিমান ভাড়া
ঢাকা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে যাওয়া-আসার বিমান ভাড়া সময় ও গন্তব্য অনুযায়ী পরিবর্তিত হয়। সাধারণ সময়ে ইকোনমি শ্রেণির টিকিটের দাম প্রায় দেড় লাখ থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে থাকতে পারে। বিশ্বকাপ চলাকালে চাহিদা বেড়ে গেলে এই খরচ আরও বাড়তে পারে। তাই বিমান ভাড়ার জন্য অন্তত ২ থেকে ৩ লাখ টাকা বাজেট রাখা প্রয়োজন।
ম্যাচের টিকিট
বিশ্বকাপের টিকিটের দাম নির্ভর করবে কোন দল খেলছে এবং কোন পর্যায়ের ম্যাচ তার ওপর। তুলনামূলক কম জনপ্রিয় ম্যাচের টিকিট কম দামে পাওয়া গেলেও বড় দলের ম্যাচে খরচ অনেক বেড়ে যেতে পারে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড বা স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচ হলে টিকিটের দাম কয়েক গুণ বাড়তে পারে। বড় ম্যাচের ক্ষেত্রে ৭০ হাজার থেকে এক লাখ টাকার বেশি খরচ হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
থাকার খরচ
বিশ্বকাপের সময় আয়োজক শহরগুলোতে হোটেল ভাড়া বেড়ে যায়। কম খরচের শহরে তিন রাত থাকার জন্য প্রায় এক লাখ টাকা পর্যন্ত লাগতে পারে। বড় শহর যেমন নিউইয়র্ক বা নিউ জার্সি এলাকায় একই সময়ে খরচ দুই লাখ টাকার বেশি হতে পারে।
খাওয়া ও যাতায়াত
যুক্তরাষ্ট্রে খাবারের খরচ তুলনামূলক বেশি। চার দিনের ভ্রমণে খাবারের জন্য প্রায় ২৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা প্রয়োজন হতে পারে। এ ছাড়া বিমানবন্দর থেকে হোটেল, হোটেল থেকে স্টেডিয়াম এবং শহরের ভেতরে চলাচলের জন্য আরও ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে।
অতিরিক্ত খরচ
ভ্রমণ বিমা, মোবাইল সেবা, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, স্মারক বা জার্সি কেনাসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে আরও ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা ধরে রাখা নিরাপদ। সব মিলিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের একটি ম্যাচ মাঠে বসে দেখতে একজন দর্শকের মোট ব্যয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪ লাখ থেকে ৭ লাখ টাকা। তবে বড় ম্যাচ বা ফাইনাল দেখতে গেলে এই খরচ আরও কয়েক গুণ বেড়ে যেতে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :