ধর্ষণের অভিযোগে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৬, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
ধর্ষণের অভিযোগে নরওয়ের ক্রাউন প্রিন্সেসের ছেলের ৪ বছরের কারাদণ্ড

নরওয়ের যুবরাজ্ঞী মেটে-মারিতের ছেলে ম্যারিয়াস বোর্গ হোইবিকে ধর্ষণসহ একাধিক অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির আদালত। বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (১৫ জুন) ঘোষিত রায়ে ২৯ বছর বয়সী হোইবিকে দুটি ধর্ষণের ঘটনাসহ মোট ৩৪টি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, সড়ক আইন লঙ্ঘন, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধসহ মোট ৪০টি অভিযোগ আনা হয়েছিল। এসব অভিযোগে তার সর্বোচ্চ ১৬ বছরের কারাদণ্ড হতে পারত।

মামলাটি সরাসরি নরওয়ের রাজপরিবারকে জড়িত না করলেও দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। তবে হোইবি আনুষ্ঠানিকভাবে রাজপরিবারের সদস্য নন। তিনি ২০০১ সালে যুবরাজ হাকনের সঙ্গে মেটে-মারিতের বিয়ের আগের সম্পর্কের সন্তান। ফলে তিনি কোনো রাজকীয় দায়িত্ব পালন করেন না এবং রাজপরিবারের আনুষ্ঠানিক সদস্য হিসেবেও বিবেচিত হন না।

রায় ঘোষণার পর হোইবির আইনজীবীরা তাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করেন, যাতে তিনি অসুস্থ মায়ের সঙ্গে সময় কাটাতে পারেন। তবে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া একজন ভুক্তভোগীর ক্ষেত্রে পূর্বে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গের অভিযোগও রয়েছে।

মামলায় মোট ছয়জন নারী ভুক্তভোগী হিসেবে জড়িত ছিলেন। আদালত দুই নারীর অভিযোগে হোইবিকে নির্দোষ ঘোষণা করলেও বাকি ঘটনাগুলোতে তাকে দোষী সাব্যস্ত করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৮ সালে রাজপরিবারের স্কাগুম প্রাসাদ এলাকায় এবং ২০২৪ সালে ওসলো শহরে পৃথক দুটি ঘটনায় দুই নারীকে ধর্ষণের প্রমাণ পাওয়া গেছে।

এছাড়া আরও কয়েকটি ঘটনায় তার বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন ও সহিংস আচরণের অভিযোগও আদালতে প্রমাণিত হয়েছে। যে দুটি অভিযোগে তাকে খালাস দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে একটির ঘটনা ওসলোর একটি আবাসিক হোটেলে এবং অন্যটি লোফোটেন দ্বীপে ভ্রমণের সময় ঘটেছিল বলে অভিযোগ ছিল।

আদালত জানান, অনেক ভুক্তভোগী ঘটনার সময় ঘুমন্ত বা অচেতন অবস্থায় ছিলেন। পরবর্তীতে হোইবির মুঠোফোনে পাওয়া ভিডিওচিত্রের মাধ্যমে ঘটনাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসে। এদিকে নরওয়ের এক অপরাধবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, দেশটিতে ধর্ষণ মামলায় প্রমাণের মানদণ্ড অত্যন্ত কঠোর হওয়ায় অনেক মামলা আদালতে টিকে না। এতে বিচারপ্রত্যাশী ভুক্তভোগীদের মধ্যে হতাশা তৈরি হচ্ছে।