
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় আবাসিক এলাকায় পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে একটি চুন পোড়ানোর কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই অবৈধ গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে পাথর পুড়িয়ে চুন উৎপাদন করা হচ্ছিল, এতে এলাকায় মারাত্মক পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হয়।
রোববার (১৪ জুন) বিকেলে উপজেলার নবীপুর পশ্চিম ইউনিয়নের কুলুবাড়ী এলাকায় বসতবাড়ির মাঝেই এই কারখানার কার্যক্রম চলছিল বলে জানা যায়। স্থানীয়দের দাবি, দিনের তুলনায় রাতে কারখানার কার্যক্রম বেড়ে যেত, ফলে ঘন কালো ধোঁয়া ও তীব্র দুর্গন্ধে আশপাশের পরিবেশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠছিল।
ভুক্তভোগীরা জানান, কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশের বাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ত। এতে শিশু, নারী ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, কাশি, চোখ জ্বালা, মাথাব্যথা ও ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় কমাতে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ ব্যবহার করা হচ্ছিল এবং পরিবেশগত ঝুঁকি উপেক্ষা করে বাণিজ্যিকভাবে চুন উৎপাদন চলছিল।
জানা গেছে, কারখানাটি দেবিদ্বার উপজেলার বড়শালঘর ইউনিয়নের সংচাইল গ্রামের বাসিন্দা মোমেন মিয়া ভাড়া নেওয়া জায়গায় পরিচালনা করছিলেন। তবে পরিবেশগত অনুমোদন ছিল কি না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
পরিস্থিতি জানতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালায় বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল)। সংস্থাটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী আবু ওবায়েদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চারটি নজেলের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগের মাধ্যমে পরিচালিত চুল্লি শনাক্ত করা হয়।
পরে বিজিডিসিএলের ভিজিল্যান্স ও লাইসার টিম অভিযান চালিয়ে ওই কারখানার অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। তিনি আরও জানান, ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজীব বলেন, আবাসিক এলাকায় এ ধরনের শিল্পকারখানা পরিচালনার কোনো অনুমতি নেই। অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে স্থানীয়রা আবাসিক এলাকা থেকে এ ধরনের দূষণকারী কার্যক্রম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে শিল্পাঞ্চলে স্থানান্তরের দাবি জানিয়েছেন। তারা সতর্ক করে বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ আরও ভয়াবহ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
আপনার মতামত লিখুন :