
দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।
এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের এসব কর্মপরিকল্পনার অগ্রগতি নিয়মিতভাবে প্রতিবেদন আকারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠাতে বলা হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানায়, গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে বিভিন্ন জেলার প্রশাসকরা নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পরে ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাব থেকে যাচাই-বাছাই করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগগুলোকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
নতুন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্য রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটি (বেপজা)-এর অধীনে আটটি ইপিজেড রয়েছে—ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা। এসব অঞ্চলে কর ও শুল্ক সুবিধায় কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য রপ্তানির সুযোগ রয়েছে।
ডিসি সম্মেলনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক শিল্পকারখানা স্থানান্তরের জন্য অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন, যাতে পরিকল্পিত শিল্পায়ন ও পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হয়। বরিশাল, বরগুনা, পিরোজপুর ও লালমনিরহাটের প্রশাসকরাও নিজ নিজ জেলার সম্ভাবনা তুলে ধরে আলাদা অর্থনৈতিক অঞ্চল ও ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বলেন, প্রতিবছর ডিসি সম্মেলনের প্রস্তাবগুলো যাচাই-বাছাই করে বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে।
এদিকে সরকারের পরিকল্পনায় বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির অংশ হিসেবে প্রশাসনিক কাঠামো সংস্কার এবং বিনিয়োগ সংস্থাগুলো একীভূত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলো বাস্তবায়িত হলে আঞ্চলিক বৈষম্য কমবে, কর্মসংস্থান বাড়বে এবং দেশের রপ্তানি খাতে নতুন গতি আসবে।
আপনার মতামত লিখুন :