বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ, ভারত-পাকিস্তান কততম


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ
বাংলাদেশ এখন দক্ষিণ এশিয়ায় চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশ, ভারত-পাকিস্তান কততম

গ্লোবাল পিস ইনডেক্স (জিপিআই) ২০২৬-এ দক্ষিণ এশিয়ার চতুর্থ শান্তিপূর্ণ দেশের অবস্থান পেয়েছে বাংলাদেশ। তালিকায় ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানকে পেছনে ফেলে দেশটি তুলনামূলকভাবে এগিয়ে রয়েছে।

অস্ট্রেলিয়া-ভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস (আইইপি) মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রকাশিত এই সূচকে বাংলাদেশকে ‘মিডিয়াম’ বা মধ্যম শান্তির স্তরে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে। মোট ১৬৩টি দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১১৭তম, এবং স্কোর ৫-এর মধ্যে ২.২২৬।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তির সূচক নির্ধারণে তিনটি প্রধান ক্ষেত্র—সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা, চলমান অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং সামরিকীকরণ—এর অধীনে ২৩টি সূচক ব্যবহার করা হয়। স্কোর যত কম, দেশ তত বেশি শান্তিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষায় স্কোর ২.৫৭৯, চলমান সংঘাতে ২.২৩৭ এবং সামরিকীকরণে ১.৬১৫।

দক্ষিণ এশিয়ায় এবারও সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে অবস্থান ধরে রেখেছে ভুটান, যার বৈশ্বিক অবস্থান ১৬তম। এরপর শ্রীলঙ্কা (৬৭তম) ও নেপাল (১১১তম)। ভারতের অবস্থান ১২৭তম, আর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান রয়েছে যথাক্রমে ১৫২ ও ১৫৭তম স্থানে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বৈশ্বিকভাবে টানা ১৯ বছর ধরে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে শীর্ষে রয়েছে আইসল্যান্ড। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও আয়ারল্যান্ড।

অন্যদিকে, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সবচেয়ে কম শান্তিপূর্ণ দেশের অবস্থানে এসেছে রাশিয়া। তালিকায় এর পরেই রয়েছে সুদান, ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, ইউক্রেন ও ইসরায়েল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক বছরে বৈশ্বিক শান্তির মাত্রা ০.৭ শতাংশ কমেছে এবং টানা ১২ বছর ধরে এ অবনতি চলমান রয়েছে। ১৬৩ দেশের মধ্যে ৯৯টিতে শান্তির অবনতি ঘটেছে।

জিপিআই প্রতিবেদনে বাংলাদেশের সম্ভাব্য ঝুঁকির দিকও তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক সংঘাত ও জ্বালানি বাজার অস্থিরতার কারণে এলএনজি আমদানির খরচ বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এতে জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতা তৈরি হলে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় জিডিপির ১.৫ থেকে ২.৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মন্দা দেখা দিলে দক্ষিণ এশিয়ার আমদানিনির্ভর দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।