ফিলিস্তিনের পক্ষে থেকেও ইসরায়েলকে জ্বালানি দিয়ে সাহায্য ব্রাজিলের


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ১২:২৫ অপরাহ্ণ
ফিলিস্তিনের পক্ষে থেকেও ইসরায়েলকে জ্বালানি দিয়ে সাহায্য ব্রাজিলের

গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তিনি পরিস্থিতিকে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিলেও ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রাজিলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত থাকায় দেশটির অভ্যন্তরে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫ সালে ফ্রান্স সফরের সময় লুলা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। এর ধারাবাহিকতায় প্রেসিডেন্টের বিশেষ উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম সম্প্রতি জানান, ব্রাজিল ইসরায়েলের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি, বিশেষ করে সামরিক সহযোগিতা, পুনর্বিবেচনা করছে।

তবে তিনি একই সঙ্গে ইসরায়েলের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তার মতে, এমন সিদ্ধান্ত ইসরায়েলে অবস্থানরত ব্রাজিলীয় নাগরিকদের কনস্যুলার সেবায় জটিলতা তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে, ব্রাজিলের একাংশ বিশেষজ্ঞ ও বিশ্লেষকরা বলছেন, বাস্তবসম্মত বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় সম্পর্ক ছিন্ন না করেও কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখা সম্ভব। কেউ কেউ রামাল্লাহ ও পূর্ব জেরুজালেমে ব্রাজিলের কনস্যুলার সেবার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে যুক্তি দেন যে সেবা বিকল্প কেন্দ্র থেকেও দেওয়া যেতে পারে।

অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ইসরায়েলপন্থি আইনপ্রণেতা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর প্রভাবও বিষয়টিকে জটিল করে তুলছে বলে বিশ্লেষকদের মত। তাদের মতে, ব্রাজিলের অবস্থান অনেক আরব দেশের মতোই দ্ব্যর্থক—যারা নিন্দা জানালেও বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখে।

এদিকে নাগরিক সমাজের একটি বড় অংশ সরকারকে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তারা বিশেষ করে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ এবং ইসরায়েলি পণ্যের বর্জনের দাবি তুলেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভও হয়েছে।

অর্থনৈতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইসরায়েলের ১২তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ব্রাজিল। ওই বছর ব্রাজিল ইসরায়েলে প্রায় ৭২৫ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, যার বড় অংশ ছিল জ্বালানি তেল, গরুর মাংস ও সয়াবিন। একই সময়ে ইসরায়েল থেকে ব্রাজিলে আমদানি হয়েছে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।

বিশ্লেষকদের মতে, ব্রাজিলের তুলনায় ইসরায়েলের জন্য বাণিজ্যিক নির্ভরতা বেশি হওয়ায় সম্পর্ক ছিন্ন হলে রাজনৈতিক বার্তাই হবে সবচেয়ে বড় প্রভাব। তবে সামরিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

২০২৪ সালে লুলা গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের অভিযানকে ঐতিহাসিক ট্র্যাজেডির সঙ্গে তুলনা করলে দুই দেশের সম্পর্কে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। এরপর থেকেই রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারসহ কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে গাজা যুদ্ধকে ঘিরে ব্রাজিলের নীতি শুধু আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেই নয়, দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ভারসাম্যেও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।