তিন নাবিক হত্যার বিচার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমক’ খেলো ভারত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৪, ২০২৬, ৬:৩৩ অপরাহ্ণ
তিন নাবিক হত্যার বিচার দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ধমক’ খেলো ভারত

ওমান উপসাগরে একটি তেলবাহী জাহাজে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পরপরই দিল্লিতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত জ্যাসন মিকসকে দুই দফায় তলব করে ভারত। পাশাপাশি ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-এর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন এবং ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।

রোববার (১৪ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া-এর বরাতে জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) দুই মন্ত্রীর মধ্যে ওই ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো নিয়ে কথা হয়।

ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ওমান উপসাগরে পালাউয়ের পতাকাবাহী তেলবাহী জাহাজ ‘এমটি সেট্টেবেলো’-তে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হন। এছাড়া একই এলাকায় আরও একটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হলে ভারত দ্বিতীয়বারের মতো মার্কিন কূটনীতিককে তলব করে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, সংশ্লিষ্ট জাহাজটি মার্কিন নৌবাহিনীর নির্দেশনা অমান্য করে ইরান থেকে তেল পরিবহনের চেষ্টা করছিল এবং অবরোধ ভঙ্গের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দেশনা না মানায় জাহাজটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী সব বাণিজ্যিক জাহাজকে মার্কিন বাহিনীর নির্দেশনা মেনে চলতে হবে এবং অবরোধ লঙ্ঘন কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, বেসামরিক জাহাজে প্রাণঘাতী হামলা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এ ঘটনায় আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে।

ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনেও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। ভারতের কংগ্রেস নেতা শশী থারুর বলেছেন, মার্কিন বিবৃতিতে নিহত ভারতীয় নাবিকদের প্রতি পর্যাপ্ত সমবেদনা প্রকাশ করা হয়নি, যা হতাশাজনক। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনার ফলে হরমুজ প্রণালি ঘিরে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ভারত কৌশলগত সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।