তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ১৯৭৫ সালের সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এবং ১৬ জুনের সংবাদপত্র নিয়ন্ত্রণের “কালো আইন”-এর মাধ্যমে দেশের গণমাধ্যম যখন অন্ধকার পথে প্রবেশ করেছিল, তখন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর ভূমিকার কারণেই তা আবার স্বাধীনতার পথে ফিরে আসে।
রোববার (১৪ জুন) জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে যুগ যুগ ধরে শহীদ জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করতে হবে, কারণ তিনি ছিলেন স্বাধীন গণমাধ্যমের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তার মতে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে কোনো রাষ্ট্রই জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে না।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ এবং সঞ্চালনা করেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ূব ভূঁইয়া। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আলোচনায় জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে কোনো নির্দেশনা ছাড়াই তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে নেতৃত্ব দেন। তার মতে, সেই সময় তিনি ছিলেন জাতির জন্য দিকনির্দেশনামূলক এক রাষ্ট্রনায়কোচিত ব্যক্তিত্ব। তিনি আরও বলেন, ৭ নভেম্বরের ঘটনাপ্রবাহ এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন, যা দেশের স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ভূমিকা রাখে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জহির উদ্দিন স্বপন দাবি করেন, জিয়াউর রহমান সামরিক কর্মকর্তা হলেও তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি তাকে একজন দক্ষ রাষ্ট্রনায়কে পরিণত করেছিল। তিনি ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা দেখিয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতি বিকাশে ভূমিকা রেখেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে গণমাধ্যমের বিকাশ ও স্বাধীনতার ভিত্তি সুদৃঢ় হয়েছিল, যা পরবর্তী সময়ে দেশের গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রভাবিত করেছে। সভায় সাংবাদিক নেতারাও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেন।
আপনার মতামত লিখুন :