হামলা বন্ধের শর্তে আমিরাত থেকে হাজার কোটি ডলার পাচ্ছে ইরান


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৩, ২০২৬, ৫:২৬ অপরাহ্ণ
হামলা বন্ধের শর্তে আমিরাত থেকে হাজার কোটি ডলার পাচ্ছে ইরান

ইরানের জন্য কয়েকশ কোটি ডলারের তহবিল ছাড় করতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)—এমন দাবি করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সাম্প্রতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে চারটি সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে দফায় দফায় আমিরাতে হামলার পর উপসাগরীয় ধনী দেশটি নিজেদের কৌশলে পরিবর্তন আনে। আলোচনার মাধ্যমে ইরানের জন্য মোট ১০ বিলিয়ন (১ হাজার কোটি) ডলার ছাড়ের বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ইতোমধ্যে তেহরানকে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।

আরও দুটি সূত্রের মতে, আবুধাবি মোট ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অর্থ ছাড় করতে পারে। শর্ত হিসেবে বলা হয়েছে, ইরান যেন আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভূখণ্ডে কোনো ধরনের হামলা না চালায়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন ও আস্থা পুনরুদ্ধারের বিষয়ও এই সমঝোতার অংশ বলে জানা গেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে বিদেশি ব্যাংকগুলোতে ইরানের তেল বিক্রির বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রয়েছে। চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার মাধ্যমে সেই অর্থ ছাড়ের সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তবে শনিবার (১৩ জুন) ভোরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই দাবি সরাসরি অস্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, ৩ বিলিয়ন ডলার হস্তান্তরের খবরটি “সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বানোয়াট”। তবে এর বাইরে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি আবুধাবি। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, অর্থ হস্তান্তরের উৎস নিয়ে স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি—এটি আমিরাতের নিজস্ব তহবিল নাকি ইরানেরই আটকে থাকা সম্পদ, তা নিশ্চিত নয়।

এদিকে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য করেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেছেন, কোনো চুক্তি বা বৈঠকের ভিত্তিতে নয়, বরং ইরান তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করলেই কেবল অর্থনৈতিক সুবিধা পাবে। রয়টার্স আরও জানায়, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষই প্রকাশ্যে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। সমঝোতাটি বাস্তব হলে এটি উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান-আমিরাত সম্পর্ক এবং বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।