বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরা কে এই সঞ্জয়


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৩, ২০২৬, ৬:০৩ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপের মঞ্চে বাংলাদেশকে তুলে ধরা কে এই সঞ্জয়

ফুটবল বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে এবার নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সংগীতশিল্পী সঞ্জয়। কানাডার টরন্টোতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পারফর্ম করে তিনি প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিল্পী হিসেবে বিশ্বকাপের মঞ্চে জায়গা করে নেন। একই সঙ্গে নিজের পোশাকে বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক তুলে ধরে দেশকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে প্রশংসা কুড়ান তিনি।

শনিবার টরন্টো স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচের আগে আয়োজিত বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে সঞ্জয়ের সঙ্গে মঞ্চে ছিলেন নোরা ফাতেহী এবং ফরাসি হিপ-হপ শিল্পী ভেভেড্রিম। তারা একসঙ্গে পরিবেশন করেন ফিফার অফিসিয়াল গান ‘সির সির’। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে এ সময় সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আলোচিত দিক ছিল সঞ্জয়ের বিশেষভাবে তৈরি পোশাক। তার জ্যাকেটের ডান হাতায় এমব্রয়ডারির মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলা হয়েছিল বাংলাদেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, জাতীয় ফুল শাপলা এবং জাতীয় পতাকার নকশা। পারফরম্যান্স চলাকালে তিনি বারবার হাতার দিকে ইঙ্গিত করে দর্শকদের সামনে এসব প্রতীক তুলে ধরেন। মুহূর্তটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করে।

সঞ্জয়ের জন্ম মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে। শৈশবের একটি বড় অংশ তিনি চট্টগ্রামে কাটান। পরবর্তীতে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং বর্তমানে লস অ্যাঞ্জেলেসভিত্তিক সংগীতশিল্পী হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বাংলা সংগীতের উপাদানকে আধুনিক ইলেকট্রনিক সাউন্ডের সঙ্গে মিশিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের স্বতন্ত্র পরিচিতি গড়ে তুলেছেন।

আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি নিজের শেকড়ের সঙ্গেও গভীর সম্পর্ক বজায় রেখেছেন সঞ্জয়। তিনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ ২০২৫-এর থিম সং তৈরিতে যুক্ত ছিলেন। এছাড়া ভারতীয় সংগীতশিল্পী শ্রেয়া ঘোষালের সঙ্গেও কাজ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের সংগীতশিল্পীদের সঙ্গেও তার একাধিক সফল কাজ রয়েছে। হাবিব ওয়াহিদ, তাহসান খান ও জেফার রহমানের সঙ্গে করা গানগুলো ইউটিউবে মিলিয়ন ভিউ অতিক্রম করেছে, যা তাকে দক্ষিণ এশীয় সংগীত অঙ্গনে আরও জনপ্রিয় করে তুলেছে।

বিশ্বকাপের উদ্বোধনী মঞ্চে পারফরম্যান্সের মাধ্যমে সঞ্জয় শুধু একজন শিল্পী হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও পরিচয়কে বিশ্বদর্শকের সামনে তুলে ধরে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তার এই অর্জন দেশে ও প্রবাসে বাংলাদেশিদের মধ্যে গর্বের অনুভূতি তৈরি করেছে।