তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় মুরাদনগরে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা সমাবেশে ঐক্যের আহ্বান


মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি: প্রকাশের সময় : জুন ১৩, ২০২৬, ৯:১৬ অপরাহ্ণ
তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় মুরাদনগরে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা সমাবেশে ঐক্যের আহ্বান

“মাদকমুক্ত সমাজ চাই, সুন্দর জীবন গড়তে চাই”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার পৈয়াপাথর গ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী মাদকবিরোধী জনসচেতনতামূলক সমাবেশ। স্থানীয় সামাজিক সংগঠন পৈয়াপাথর সমাজ কল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক সাড়া লক্ষ্য করা গেছে।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে সমাজের বিভিন্ন স্তরে মাদকের বিস্তার রোধ, তরুণ প্রজন্মকে বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে আনা এবং পরিবারভিত্তিক সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ সাহেবের নির্দেশনায় এ জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

পৈয়াপাথর সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি মো. ফারুক ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়, পরিবার ও সমাজকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। তরুণদের সুস্থ ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করলেই মাদকমুক্ত সমাজ গড়া সম্ভব।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দুলাল মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামাল উদ্দিন ভুঁইয়া, ধামঘর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. রুহুল আমিন খোকন, নবীপুর (পশ্চিম) ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সালাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত হোসেন, বিএনপি নেতা ডা. আলী হোসেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সেলিম মিয়া।

বক্তারা বলেন, মাদক শুধু ব্যক্তির নয়, পরিবার ও সমাজের জন্যও ভয়াবহ হুমকি। তাই এ সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি।

এছাড়া স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যে সংগঠনের সহ-সভাপতি সাংবাদিক ইউনুস মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক অলি মিয়া, উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম, নজরুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, ইকবাল হোসেন, সওকত হোসেন, হাজী আবু তাহের ও মাহাবুব মিয়াসহ অনেকে বক্তব্য রাখেন।

আয়োজকরা জানান, মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। এজন্য সচেতন নাগরিক, অভিভাবক, শিক্ষক, তরুণ ও জনপ্রতিনিধিদের একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।