ইসলামী ব্যাংকে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ গভর্নরের


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১৩, ২০২৬, ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ
ইসলামী ব্যাংকে সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ গভর্নরের

ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারের হস্তক্ষেপের অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ব্যাংকটির স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে এবং এ বিষয়ে বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন গভর্নর। দেশের ব্যাংকিং খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মোস্তাকুর রহমান বলেন, দেশের বেশ কয়েকটি ব্যাংক গুরুতর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। কিছু ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বেরিয়ে গেছে এবং কোথাও কোথাও এক-তৃতীয়াংশ আমানতও হারিয়ে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে সময় ও ধৈর্যের প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গভর্নর জানান, Islami Bank Bangladesh PLC-সহ কয়েকটি দুর্বল ব্যাংককে স্থিতিশীল করতে বাংলাদেশ ব্যাংক কাজ করছে। দীর্ঘদিন ধরে যেসব আমানতকারী অর্থ উত্তোলনে সমস্যার মুখোমুখি ছিলেন, তারা এখন ধীরে ধীরে তাদের টাকা ফেরত পাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ইসলামী ব্যাংকের নতুন এমডি নিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত ২৫ মার্চ আবেদন গ্রহণের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই এবং সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে মে মাসে নতুন এমডি নির্বাচন করা হয়। পরে অর্থমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন কমিটির অনুমোদন এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

তিনি আরও জানান, একই সময়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকগুলোর বোর্ড পুনর্গঠনের কাজও চলছিল। নতুন চেয়ারম্যান দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্প্রতি প্রথম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ব্যাংকটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের কোর ব্যাংকিং সফটওয়্যার (সিবিএস) সমন্বয়ের কাজ বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন গভর্নর। তবে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কাজ করছে এবং আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ প্রসঙ্গে মোস্তাকুর রহমান বলেন, “আমরা কাউকে ঋণ দেওয়ার নির্দেশ দিই না, বদলি বা পদোন্নতির ক্ষেত্রেও কোনো ধরনের নির্দেশনা দিই না। তাই এ ধরনের অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই।” তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত পাঁচ সদস্যের বোর্ডের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় গত ১৬ মার্চ তাকে পরিবর্তন করা হয়। এর বাইরে বাংলাদেশ ব্যাংকের কোনো হস্তক্ষেপ ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।

ঈদের আগে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যানের পদত্যাগকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন গভর্নর। তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংক একটি সিস্টেমিক ব্যাংক হওয়ায় বোর্ডে প্রয়োজনীয় সদস্যসংখ্যা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। আমানতকারীদের উদ্দেশে আশ্বস্ত করে গভর্নর বলেন, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। প্রয়োজন হলে বাংলাদেশ ব্যাংক জরুরি তারল্য সহায়তা (ইমার্জেন্সি লিকুইডিটি সাপোর্ট) প্রদান করবে এবং গ্রাহকরা যে কোনো সময় তাদের আমানত উত্তোলন করতে পারবেন।

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ইসলামী ব্যাংকের এডি রেশিও ছিল প্রায় ৯৩ শতাংশ, যা চলতি বছরের মার্চে ৯৭ থেকে ৯৮ শতাংশে পৌঁছে যায়। এটিকে অস্বাভাবিক উল্লেখ করে বাংলাদেশ ব্যাংক এ হার কমিয়ে আনার নির্দেশনা দিয়েছে। সবশেষে গভর্নর বলেন, ইসলামী ব্যাংককে ঘিরে সামনে বড় ধরনের কোনো সংকট তৈরি হবে বলে তিনি মনে করেন না। ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক রয়েছে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত।