
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ২০ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। শুক্রবার সকালে উপজেলার গোপালপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে মাদারীপুর থেকে ছেড়ে আসা একটি লোকাল বাস গোপালপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা দ্রুতগতির ‘ইয়েস পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের তীব্রতায় দুটি বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা আহত হন।
দুর্ঘটনার বিকট শব্দ শুনে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তারা তাৎক্ষণিক উদ্ধার অভিযান শুরু করে বাসের ভেতরে আটকে পড়া যাত্রীদের বের করে আনেন। পরে আহতদের কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনায় আহত অন্তত ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে বেশিরভাগকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে গুরুতর আহত তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) রেফার করা হয়েছে।
হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে গুরুতর আঘাত রয়েছে। তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের ওই অংশে কিছু সময়ের জন্য যান চলাচল ব্যাহত হয়। খবর পেয়ে হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রমে অংশ নেন। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
পুলিশ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দাবি, মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে যানবাহন চলাচল ও অসতর্কতার কারণেই প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। সড়কে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
আপনার মতামত লিখুন :