জৈব-বালাইনাশক ব্যবহারে সাতকানিয়ায় ব্র্যাকের কর্মশালা


আব্দুল্লাহ আল মারুফ, চট্টগ্রাম। প্রকাশের সময় : জুন ১২, ২০২৬, ৬:১১ অপরাহ্ণ
জৈব-বালাইনাশক ব্যবহারে সাতকানিয়ায় ব্র্যাকের কর্মশালা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় টেকসই কৃষি, পরিবেশ সংরক্ষণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জৈব-বালাইনাশক (বায়োপেস্টিসাইড) ব্যবহারের গুরুত্ব তুলে ধরে দিনব্যাপী এক ব্যতিক্রমী কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) উপজেলার কাঞ্চনা ইউনিয়নের দুলহান ক্লাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে দেশের শীর্ষস্থানীয় কৃষি প্রতিষ্ঠান ব্র্যাক সিড অ্যান্ড অ্যাগ্রো এন্টারপ্রাইজ।

কর্মশালায় বক্তারা বলেন, অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার বর্তমানে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য এবং মানবস্বাস্থ্যের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বায়োপেস্টিসাইড একটি কার্যকর, নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা, বিষমুক্ত নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন এবং দীর্ঘমেয়াদে কৃষি ব্যবস্থাকে টেকসই রাখতে জৈব-বালাইনাশকের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

মো. সৈয়দ নুরুল আবছারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম রিজিয়নের আরএসএম মো. সোহেল সিকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন চন্দনাইশের টিএসও মো. সোহেল রানা।

কর্মশালায় আধুনিক ও নিরাপদ চাষাবাদ পদ্ধতির পাশাপাশি ব্র্যাক উদ্ভাবিত বিভিন্ন উচ্চফলনশীল বীজ সম্পর্কে কৃষকদের বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল হাইব্রিড ধান ‘রাজা’, করলা বীজ ‘মনি’, হাইব্রিড ভুট্টা-১৬৪ এবং মানসম্মত আলু বীজসহ ব্র্যাক সিডের বিভিন্ন উন্নত জাতের ফসলের বীজ।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে এ উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, “রাসায়নিক কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে বাঁচতে বায়োপেস্টিসাইডের ব্যবহার এখন সময়ের দাবি। টেকসই কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের মধ্যে জৈব-বালাইনাশকের ব্যবহার সম্প্রসারণ করতে হবে। কৃষির টেকসই উন্নয়নে ব্র্যাক সিডের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”

ব্যতিক্রমী এ কর্মশালায় সাতকানিয়া উপজেলার ৫৭ জন মডেল কৃষক অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে কৃষকদের জৈব-বালাইনাশকের পরিচিতি, সঠিক প্রয়োগ পদ্ধতি, কার্যকারিতা এবং ফসলের রোগ ও পোকামাকড় দমনে এর ভূমিকা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে এর ব্যবহারিক কার্যকারিতা সম্পর্কেও অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান তারা। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের সচেতনতামূলক ও ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ তৃণমূল পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ কৃষি চর্চা সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।