গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সান্তাহার সড়ক সংস্কারকাজে তদন্তের নির্দেশ


শারমিন খাতুন: প্রকাশের সময় : জুন ১২, ২০২৬, ৭:২০ পূর্বাহ্ণ
গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সান্তাহার সড়ক সংস্কারকাজে তদন্তের নির্দেশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার সাইলো সড়ক সংস্কার ও নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নিয়েছে খাদ্য অধিদপ্তর। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়ে তদন্তের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক (যুগ্মসচিব) এ টি এম কাউছার হোসেন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনার কথা জানানো হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযোগ তদন্তের দায়িত্ব রাজশাহী আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকৌশলীকে প্রদান করা হয়েছে। তাকে সরেজমিনে গিয়ে সড়ক সংস্কারকাজের গুণগতমান, বাস্তবায়ন পদ্ধতি এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এছাড়া প্রকল্পের নির্মাণকাজে মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্ধারিত কারিগরি মানদণ্ড অনুসারে কাজ সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দীর্ঘস্থায়ী ও মানসম্মত সড়ক নির্মাণ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ সান্তাহার সাইলো সড়ককে আরসিসি ঢালাইয়ের মাধ্যমে টেকসইভাবে নির্মাণ ও সংস্কারের জন্য ৯ কোটি ৫৮ লাখ টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। তবে কাজ শুরুর পর থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার জাতীয় ও আঞ্চলিক বিভিন্ন পত্রিকায় একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে তা খাদ্য অধিদপ্তরের নজরে আসে। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ তদন্তের সিদ্ধান্ত নেয়।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সান্তাহার সাইলোতে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। এ কারণে খাদ্য অধিদপ্তর ৯ কোটি ৫৮ লাখ ১৭ হাজার টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার প্রকল্প অনুমোদন দেয়। চলতি বছরের ৩ মার্চ কাজ শুরু হয়েছে এবং ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে প্রকল্প শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজে নির্ধারিত গভীরতায় মাটি খনন করা হচ্ছে না, পুরোনো ও নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হচ্ছে এবং আরসিসি ঢালাইয়ে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সিমেন্ট ও মানসম্মত উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে না। এছাড়া পুরোনো কার্পেটিং যথাযথভাবে অপসারণ ও প্রয়োজনীয় কমপ্যাকশন ছাড়াই বালু ও ইট বিছিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে ভারী যানবাহন চলাচলের উপযোগী ও দীর্ঘস্থায়ী সড়ক নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।