
২০২৮ সালে চালু হতে যাওয়া নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি তৃতীয় একটি ভাষা শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। তৃতীয় ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীদের বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে উৎসাহিত করতে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরীয়, মান্দারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ভাষা অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এসব ভাষায় দক্ষ শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে যারা বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে আগ্রহী, তাদের জন্য ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের পোশাক, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহ করা হবে। পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, সহায়ক প্রযুক্তি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষাসামগ্রী নিশ্চিত করা হবে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মধ্যাহ্নভোজ কর্মসূচি চালু ও পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থী, বিশেষ করে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্যানিটেশন সুবিধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে ‘এক শিক্ষক, এক ট্যাব’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। এ ছাড়া মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপন এবং বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
সরকারের মতে, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার মানোন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি এবং বৈশ্বিক কর্মবাজারে বাংলাদেশের তরুণদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
আপনার মতামত লিখুন :