
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট বক্তব্যে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক বৃহৎ প্রকল্পের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর মধ্যে রয়েছে দ্বিতীয় যমুনা সেতু, তৃতীয় মেঘনা সেতু এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ।
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করা, যোগাযোগ ব্যবস্থা আধুনিকীকরণ এবং নগর পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার সমন্বিত অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। একই সঙ্গে নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মহাসড়ক উন্নয়ন ও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক করিডোর চার লেনে উন্নীত করার কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোর মাধ্যমে একটি মাল্টিমোডাল হাব গড়ে তোলার পরিকল্পনাও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে বর্তমানে ৯৪টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে ‘সেফটি সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ ভিত্তিক বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প পুনরায় চালু করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৭২ সালে মাত্র ৭৮৬ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে যাত্রা শুরু করেছিল বাংলাদেশ। পাঁচ দশকের বেশি সময়ে অর্থনীতির আকার যেমন বড় হয়েছে, তেমনি রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও উন্নয়ন কর্মসূচির পরিধিও বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
এবারের বাজেটকে দেশের ইতিহাসে অন্যতম বৃহৎ বাজেট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। টাকার অঙ্কে এর আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
ঘাটতি অর্থায়নের জন্য অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক উভয় উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে। অভ্যন্তরীণ অর্থের বড় অংশ ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার মাধ্যমে পূরণ করা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকারের লক্ষ্য শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন নয়, বরং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিল করা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়া।
আপনার মতামত লিখুন :