বাজেট ২০২৬-২৭: চাল-চিনি-পেঁয়াজসহ ৬০ নিত্যপণ্যে কর ছাড়


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ৪:২৩ অপরাহ্ণ
বাজেট ২০২৬-২৭: চাল-চিনি-পেঁয়াজসহ ৬০ নিত্যপণ্যে কর ছাড়

দেশের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর ঘোষণা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে বাজারে খাদ্য ও কৃষিপণ্যের দাম কিছুটা কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে দেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

বাজেট বক্তৃতায় তিনি জানান, ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ বিভিন্ন মৌলিক কৃষি ও ভোগ্যপণ্যের ওপর বিদ্যমান উৎসে করের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হবে। বর্তমানে এসব পণ্যের ওপর ৫ শতাংশ, ২ শতাংশ এবং ১ শতাংশ হারে উৎসে কর আরোপিত থাকলেও তা কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, গত কয়েক বছরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছিল। গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতেই এই কর ছাড়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং জনকল্যাণকে গুরুত্ব দিয়ে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। সরকারের প্রত্যাশা, কর হ্রাসের ফলে উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যয় কমবে এবং তার ইতিবাচক প্রভাব ভোক্তা পর্যায়েও পড়বে।

এদিকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বাজেট। এর বিপরীতে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ, অনুদান এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে।

প্রস্তাবিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। সরকারের লক্ষ্য অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা।

বিশ্লেষকদের মতে, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর এই সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সাধারণ মানুষের ব্যয় কিছুটা কমবে এবং বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।