ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে সরকার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে সরকার

দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ জাতীয় বাজেট পেশ করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা বাংলাদেশের ৫৫তম জাতীয় বাজেট এবং এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আকারের বাজেট। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদে স্পিকার ড. হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বাজেট প্রস্তাব উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের এটি প্রথম বাজেট। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির পথে এগিয়ে নেওয়াকে সামনে রেখে এবারের বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত বাজেটে মোট রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। অবশিষ্ট অর্থ অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণ এবং উন্নয়ন সহযোগীদের সহায়তা থেকে সংগ্রহ করা হবে। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াতে পারে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

উদ্যোক্তা ও ব্যবসা খাতকে উৎসাহ দিতে উদ্যোক্তা উন্নয়ন তহবিলে ২২৫ কোটি টাকা এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের (এসএমই) জন্য ২ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনের প্রস্তাব থাকতে পারে। পাশাপাশি সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের ঘোষণাও আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণ খাতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের বাজেটে। ২৫ লাখ নাগরিকের জন্য ‘ই-হেলথ কার্ড’ কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ বিভিন্ন নতুন কর্মসূচি যুক্ত করা এবং বিদ্যমান সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিগুলোর বরাদ্দ বৃদ্ধি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদেশে কর্মসংস্থান সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া যুবসমাজকে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ থেকে দূরে রেখে সৃজনশীল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে ৩০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হতে পারে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নতুন অর্থবছরে জিডিপির আকার ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

এবারের বাজেটের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ব্যবসা পরিচালনা সহজীকরণ। এ লক্ষ্যে লাইসেন্স, অনুমোদন ও কর ব্যবস্থাপনায় সংস্কারের পাশাপাশি ‘বাংলাবিজ’ নামে একটি সমন্বিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে ব্যবসাসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।