বাজেট ২০২৬-২৭: কর ও ভ্যাট নিয়ে আসতে পারে বড় সিদ্ধান্ত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ১১:১৯ পূর্বাহ্ণ
বাজেট ২০২৬-২৭: কর ও ভ্যাট নিয়ে আসতে পারে বড় সিদ্ধান্ত

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে কর ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কার এবং করের আওতা সম্প্রসারণে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে কর ফাঁকি রোধ, নতুন করদাতা শনাক্তকরণ এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন নিশ্চিত করাই এসব উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন, তাতে কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার নানা প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

প্রস্তাবিত পদক্ষেপের অংশ হিসেবে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা, ব্যাংক ঋণ গ্রহণ এবং ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে ভ্যাট নিবন্ধন বা বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নাম্বার (বিআইএন) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও আসতে পারে।

এনবিআর সূত্র জানায়, খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পণ্য সরবরাহের ওপর শূন্য দশমিক ২০ শতাংশ অগ্রিম কর সংগ্রহের মাধ্যমে পুরো সরবরাহ ব্যবস্থাকে করের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে উৎপাদন থেকে ভোক্তা পর্যায় পর্যন্ত লেনদেনের তথ্য কর প্রশাসনের নজরদারির আওতায় আসবে।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে এনবিআরের তথ্যভান্ডারকে জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক, ইউটিলিটি সেবা, ভূমি সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং অন্যান্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্যভান্ডারের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে। সেন্ট্রাল ডেটা ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে কর ফাঁকি শনাক্ত ও করদাতাদের তথ্য যাচাই আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

কর প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মতে, দেশের সীমিত করভিত্তি এবং দীর্ঘদিনের কর ফাঁকির প্রবণতা মোকাবিলায় করভিত্তি সম্প্রসারণ ও কাঠামোগত সংস্কারের বিকল্প নেই। এসব পদক্ষেপ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে করদাতার সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ আরও টেকসই ভিত্তি লাভ করবে।

এদিকে করদাতাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সুযোগ তৈরি করতে আগামী পাঁচ বছরের জন্য একটি পূর্বানুমানযোগ্য প্রগতিশীল কর কাঠামো ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যক্তি ও কোম্পানি উভয় পর্যায়ে ২০২৬-২৭ থেকে ২০৩০-৩১ অর্থবছর পর্যন্ত সম্ভাব্য করহারের রূপরেখা বাজেটে তুলে ধরা হবে, যা করদাতাদের ভবিষ্যৎ কর দায় সম্পর্কে আগাম ধারণা দিতে সহায়ক হবে।