বাজেটে কমছে ও বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ৪:১৯ অপরাহ্ণ
বাজেটে কমছে ও বাড়ছে যেসব পণ্যের দাম

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে এমন বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য, প্রযুক্তিপণ্য ও স্বাস্থ্যসেবাসংক্রান্ত বিভিন্ন পণ্যে কর-শুল্ক কমানো হয়েছে, অন্যদিকে সিগারেটসহ কিছু পণ্যের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ফলে নতুন বাজেটে ভোক্তারা যেমন কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তি পাবেন, তেমনি কিছু ক্ষেত্রে বাড়তি ব্যয়ও গুনতে হবে।

বাজেটে ধান, চাল, গম, আলু, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল ও বিভিন্ন কৃষিপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে। এর ফলে এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি শিশুখাদ্য, আমদানি করা সব ধরনের মসলা এবং খেজুরের ওপর ৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ভোক্তাদের জন্য ইতিবাচক খবর।

শিল্প ও গৃহস্থালি পণ্যের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের কর-সুবিধা রাখা হয়েছে। ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ ওভেন, ইলেকট্রিক ওভেন, এলপিজি সিলিন্ডার, ফ্রিজ, এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, এটিএম মেশিন, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, মনিটর ও প্রিন্টারের দাম কমতে পারে। এছাড়া স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত স্কিন কেয়ার পণ্য, সিমেন্ট, ট্রান্সফরমার, ডিটারজেন্ট এবং সাইকেলের যন্ত্রাংশের ক্ষেত্রেও কর-ছাড় দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্যখাতে রোগীদের জন্য এসেছে বড় স্বস্তি। কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টারের শুল্ক কমানোয় প্রতি ডায়ালাইসিসে খরচ কমতে পারে প্রায় ৮০০ টাকা। একইসঙ্গে হৃদরোগীদের ব্যবহৃত স্টেন্ট ও চোখের লেন্সের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে কমার সম্ভাবনা রয়েছে। ক্যান্সার প্রতিরোধী ওষুধ উৎপাদনে প্রয়োজনীয় কয়েকটি উপকরণের আমদানি শুল্ক ও ভ্যাটও শূন্য করা হয়েছে।

ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য আবগারি শুল্ক আরোপের সীমা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ খাতে কর রেয়াত এবং সৌর সরঞ্জাম আমদানিতে দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তথ্যপ্রযুক্তি ও ডিজিটাল অর্থনীতিকে উৎসাহ দিতে কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের আয় শতভাগ করমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। স্টার্টআপ, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসা এবং ফ্রিল্যান্সারদের জন্যও ভ্যাট অব্যাহতির প্রস্তাব রয়েছে। এছাড়া মোবাইল সিমের ওপর আরোপিত ৩০০ টাকার কর প্রত্যাহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে ধূমপায়ীদের জন্য বাজেট সুখকর নয়। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার লক্ষ্যে সব স্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রতি ১০ শলাকার নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম ৬২ টাকা, মধ্যম স্তরের ৯২ টাকা, উচ্চ স্তরের ১৬০ টাকা এবং অতি উচ্চ স্তরের সিগারেটের দাম ২১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সব মিলিয়ে এবারের বাজেটে একদিকে নিত্যপণ্য, প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবায় স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, অন্যদিকে জনস্বার্থ ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনার বিবেচনায় কিছু খাতে ব্যয় বৃদ্ধি মেনে নিতে হবে সাধারণ মানুষকে।