ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ৭:১০ অপরাহ্ণ
ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় সুখবর

দেশের ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তির খবর এসেছে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে। এতে এই খাতের সব ধরনের আয়ের ওপর কর অব্যাহতি এবং ভ্যাট সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের প্রস্তাব করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এ প্রস্তাব তুলে ধরেন। নতুন ব্যবস্থায় ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশন—উভয় খাত থেকেই অর্জিত আয় করমুক্ত থাকবে।

এতদিন পর্যন্ত শুধু তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর ফ্রিল্যান্সিং আয়ের ক্ষেত্রে কর অব্যাহতির সুবিধা সীমিতভাবে কার্যকর ছিল। তবে নতুন বাজেট প্রস্তাবে এ সুবিধা সম্প্রসারণ করে সব ধরনের ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে এর আওতায় আনা হয়েছে।

সরকারের মতে, এ পদক্ষেপ তরুণদের ডিজিটাল ও সৃজনশীল কাজে আরও উৎসাহিত করবে এবং তাদের আয় বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে আনার প্রবণতা বাড়াবে। একই সঙ্গে এটি দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে।

অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার একটি বৈশ্বিক মানের ক্রিয়েটিভ ইকোনমি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েছে। এ উদ্দেশ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসার ক্ষেত্রে টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য শতাংশ করার প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বর্তমানে ফ্রিল্যান্সার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাট প্রযোজ্য থাকলেও প্রস্তাবিত বাজেটে তা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি স্টার্টআপ খাতের উন্নয়নে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত স্থানীয় পর্যায়ে ভ্যাট ও স্থাপনা ভাড়ার ওপর ভ্যাট মওকুফের প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটের মোট আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যেখানে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। বাজেট ঘাটতি দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির প্রায় ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

ঘাটতি পূরণে দেশীয় ও বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ ও সহায়তা গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এর মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি আনা, ব্যবসা-বাণিজ্যে শিথিলতা আনা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ধীরে ধীরে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির’ পথে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।