চলতি মাসেই চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১১, ২০২৬, ৮:৩৯ অপরাহ্ণ
চলতি মাসেই চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার দ্বিতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফরের গন্তব্য হিসেবে চীনকে নির্বাচন করেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে এ সফর অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে অনুষ্ঠিত সপ্তম চায়না–সাউথ এশিয়া কো-অপারেশন ফোরামে বক্তব্য দিতে গিয়ে এ তথ্য জানান জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর দ্বিতীয় বিদেশ সফর হিসেবে চীনকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং সমন্বিত কৌশলগত সহযোগিতা আরও জোরদার করবে।

বক্তব্যে কায়সার কামাল বাংলাদেশ–চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ১৯৯১ ও ২০০২ সালের সফর সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করে।

আঞ্চলিক সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে জ্বালানি সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, ঋণের চাপ এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যের অস্থিরতা এককভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এজন্য আঞ্চলিক ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়াতে হবে। ডেপুটি স্পিকার সার্ককে আরও কার্যকর করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে চীনের পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আন্তঃসীমান্ত অবকাঠামো, বাণিজ্য করিডোর, ডিজিটাল সংযোগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন এবং তরুণদের বিনিময়ের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও গভীর করা প্রয়োজন। ফোরামের পাশাপাশি বাংলাদেশি সংসদীয় প্রতিনিধিদল চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়ে এবং ইউনান প্রদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সেক্রেটারি ওয়াং নিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করে। সেখানে কৃষি, অবকাঠামো, শিল্পায়ন, অর্থনৈতিক অঞ্চল, স্বাস্থ্য ও তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।

চীনা নেতারা বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। এদিকে কুনমিংয়ে চলমান ১০ম চায়না–সাউথ এশিয়া এক্সপোজিশনে বাংলাদেশকে থিম কান্ট্রি হিসেবে রাখা হয়েছে। ৮৪টি প্যাভিলিয়ন নিয়ে বাংলাদেশ অংশ নিচ্ছে, যেখানে মোট ৯০টি দেশের অংশগ্রহণ রয়েছে।