
চট্টগ্রামে ছয় মাসের কারিগরি প্রশিক্ষণ শেষে ঝরে পড়া ৪৬ জন তরুণ-তরুণী শুধু সনদই নয়, সরাসরি চাকরির নিয়োগপত্র পেয়েছেন। এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের মাধ্যমে তাঁদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো।
গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বিশেষ কার্যক্রম-কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক-বৃত্তিমূলক পর্যায়)’ কোর্সের সমাপনী ও জব লিংকেজ অনুষ্ঠানে এই নিয়োগপত্র বিতরণ করা হয়।
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানে বলেন, “প্রশিক্ষণের বাস্তব প্রতিফলন দেখা প্রয়োজন। একজন তরুণ যখন দক্ষতার মাধ্যমে চাকরি পায়, তখন বদলায় তার জীবন, বদলায় একটি পরিবার, বদলায় সমাজ। ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা শেষ হয়ে যায় না; সঠিক গাইডলাইন ও দক্ষতা পেলে তারা দেশের শক্তিতে পরিণত হতে পারে।”
উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর উদ্যোগে হাটহাজারীর চারটি ট্রেডে মোট ৭৭ জন প্রশিক্ষণ নেন, যার মধ্যে ৭৩ জন সফলভাবে উত্তীর্ণ হন। জেলা প্রশাসনের বিশেষ তৎপরতায় চাকরি নিশ্চিত করা হয়েছে টেইলারিং ও ড্রেস মেকিং ট্রেডের ২০ জনকে ‘গ্রামীণ বুটিকস ও প্রোডাকশন হাউসে’, ১৭ জন শিক্ষানবিশ হিসেবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে এবং ৯ জন হাটহাজারীর সার্ভিসিং সেন্টারে। বেতন শুরু হবে ৫ থেকে ৮ হাজার টাকা, এবং স্থায়ী হলে বৃদ্ধি পাবে।
ডিসি জাহিদুল ইসলাম মিঞা যোগ করেন, “দেশে প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি তরুণ রয়েছে। এদের দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে পারলে অর্থনীতি আরও মজবুত হবে। প্রথম বেতনের অঙ্ক নয়, বড় বিষয় হলো দক্ষতা অর্জন।”
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর প্রতিনিধি, চাকরিদাতা প্রতিষ্ঠান ও প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। সনদ ও নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে তরুণ-তরুণীরা উচ্ছ্বসিত, বলছে, “এই উদ্যোগ আমাদের জীবনে নতুন আশা জাগিয়েছে।”
আপনার মতামত লিখুন :