২০২৮ সালের মধ্যে সবাইকে ই-হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৬, ৮:৫৪ অপরাহ্ণ
২০২৮ সালের মধ্যে সবাইকে ই-হেলথ কার্ড দেওয়া হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশব্যাপী সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সব নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সর্দার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সদস্য নুরুন্নেসা সিদ্দিকার লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, কারিগরি সহায়তা প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিককে ই-হেলথ কার্ড প্রদান করা হবে, যার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৮ সাল। এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি জাতীয় ডিজিটাল স্বাস্থ্য ডাটাবেজ গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে স্বাস্থ্যসেবাকে মৌলিক অধিকার হিসেবে নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

মন্ত্রী জানান, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সার্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিকের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়া। এ জন্য উপজেলা, জেলা এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে ই-হেলথ কার্ড, নতুন হাসপাতাল স্থাপন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, মা ও শিশু স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, টিকা ও ওষুধ সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পুষ্টি কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে ওষুধের পুনরাবৃত্তি রোধ, চিকিৎসা সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করা, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো এবং একটি দক্ষ ও রোগীবান্ধব স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

এছাড়া সরকারের পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে জেলা পর্যায়ে আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জরুরি অ্যাম্বুলেন্স নেটওয়ার্ক গঠন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক ই-প্রেসক্রিপশন ব্যবস্থা চালু এবং চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়ন। মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে বড় ধরনের ডিজিটাল রূপান্তর ঘটবে এবং সাধারণ মানুষ আরও সহজে, দ্রুত ও কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পাবে।