লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ডাকতিয়া নদীর সংযোগ খালে অবৈধ স্থাপনা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান


হাছান আহমাদ ভূঁইয়া রায়পুর , লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি) প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৬, ১:৫৬ অপরাহ্ণ
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে ডাকতিয়া নদীর সংযোগ খালে অবৈধ স্থাপনা প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান

লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও সংযোগ খালের ওপর দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং স্থানীয় অংশীজনদের সহযোগিতায় পরিচালিত এ অভিযানে তিনটি ব্রিজসহ মোট ৬১টি অবৈধ দোকানপাট ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা-এর উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের বংশী ব্রিজ এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালের দুই কিলোমিটার অংশে এ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়। অভিযান চলে খাসেরহাট বাজার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায়। বিকেল সোয়া ৫টার দিকে প্রথম দিনের অভিযান শেষ হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, আগামীকাল থেকে পুনরায় উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

অভিযান পরিচালনায় নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিগার সুলতানা, রায়পুর থানার ওসি মোঃ শাহীন মিয়া, উপজেলা ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মোঃ সাজেদুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী গোকুল চন্দ্র জানান, বংশী ব্রিজ এলাকায় ডাকাতিয়া নদীর সংযোগ খালে তিনটি ব্রিজসহ ৬১টি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো খাল খনন প্রকল্পের আওতায় সকল অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউসার বলেন, তিনটি ইউনিয়নে খাল খনন প্রকল্পের অংশ হিসেবে নথিভুক্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এর আগে অবৈধ দখলদারদের নোটিশ প্রদান করা হয়েছিল বলেও তিনি জানান।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মিজানুর রহমান বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসন ও পানি প্রবাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকারি নির্দেশনায় এ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না এবং এ অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে।

স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চরবংশী ও আশপাশের এলাকায় অবৈধ দখলের কারণে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হতো ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, যা জনদুর্ভোগ বাড়িয়ে তুলেছিল। প্রশাসনের এ উদ্যোগে এলাকায় স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।