বৃক্ষরোপণে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদনা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৬, ১২:৫৩ অপরাহ্ণ
বৃক্ষরোপণে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদনা

কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিতরণ করবে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার কৃষি প্রণোদনা ঘোষণা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, দেশের ৬৪ জেলার কৃষকদের মধ্যে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, জৈব সার, বাঁশের খুঁটি ও অন্যান্য উপকরণ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ করা হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে চারা বাবদ ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জৈব সার বাবদ ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাঁশের খুঁটি বাবদ ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা, পরিবহন ব্যয় বাবদ ৭ কোটি ৬১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় বাবদ ৫ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় প্রতিটি কৃষককে নির্ধারিত প্রজাতির চারার পাশাপাশি ৩০ কেজি জৈব সার ও একটি বাঁশের খুঁটি দেওয়া হবে। চারার ধরন অনুযায়ী চারটি ক্যাটাগরিতে সহায়তা নির্ধারণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিটি চারার সঙ্গে আলাদা ব্যয় কাঠামো নির্ধারিত রয়েছে।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। পিপিএ-২০০৬ ও পিপিআর-২০০৮ অনুসরণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে এবং কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

এছাড়া জেলা ও উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে তালিকা প্রণয়ন ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। একজন কৃষক সর্বোচ্চ পাঁচটি চারা পাবেন এবং বসতবাড়ি, পতিত জমি, সড়কের পাশ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে এসব চারা রোপণ করা যাবে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম জানান, চারা বিতরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই কার্যক্রম শুরু হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব জানান, আগামী ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়ায় এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। একই দিনে সারাদেশে একযোগে চারা বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।