কঠিন সময়ে নিয়োগদাতার সহায়তা চান ৭৫ শতাংশ কর্মী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৬, ১১:৫২ পূর্বাহ্ণ
কঠিন সময়ে নিয়োগদাতার সহায়তা চান ৭৫ শতাংশ কর্মী

আকস্মিক আর্থিক সংকট, স্বাস্থ্যগত জটিলতা কিংবা পারিবারিক দায়িত্ব পালনের মতো কঠিন সময়ে নিয়োগদাতাদের কাছ থেকে সহায়তা প্রত্যাশা করেন দেশের ৭৫ শতাংশের বেশি কর্মী। মেটলাইফ বাংলাদেশের ‘এমপ্লয়ি বেনিফিট ট্রেন্ডস স্টাডি (ইবিটিএস) ২০২৫’ শীর্ষক গবেষণায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা যায়, কর্মীদের কাছে কর্মস্থল এখন শুধু আয়ের উৎস নয়, বরং সংকটময় সময়ে নির্ভরতার জায়গা হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। জরিপে অংশ নেওয়া কর্মীদের মধ্যে ৪৩ শতাংশ আকস্মিক আর্থিক চাপে নিয়োগদাতাদের সহযোগিতাকে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছেন। এছাড়া ২৫ শতাংশ কর্মী মানসিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যার সময়, ২৪ শতাংশ পারিবারিক যত্ন ও দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এবং ২১ শতাংশ গুরুতর চিকিৎসাজনিত পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানের সহায়তা প্রত্যাশা করেন।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অধিকাংশ কর্মী তাদের কর্মস্থলকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করলেও প্রতিষ্ঠানের প্রতি দৃঢ় সমর্থন প্রদর্শনের ক্ষেত্রে কিছুটা ঘাটতি রয়েছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭২ শতাংশ কর্মী তাদের প্রতিষ্ঠানকে কর্মীবান্ধব বলে মনে করেন। তবে মাত্র ৪২ শতাংশ কর্মী অন্যদের কাছে নিজেদের কর্মস্থলকে সক্রিয়ভাবে সুপারিশ করতে আগ্রহী।

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কর্মীরা শুধু নীতিগত প্রতিশ্রুতি বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় সন্তুষ্ট নন; বরং সংকটের সময়ে বাস্তব ও দৃশ্যমান সহায়তা প্রত্যাশা করেন। বিশেষ করে নমনীয় ছুটির ব্যবস্থা, কাজের চাপ হ্রাস এবং কর্মঘণ্টা ও সময়সূচির ওপর অধিক নিয়ন্ত্রণকে তারা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বাস্থ্য ও কল্যাণমূলক সুবিধা কর্মীদের আনুগত্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৮ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন, এ ধরনের সুবিধা পেলে তাদের প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা ও আনুগত্য বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে কর্মীদের সম্পৃক্ততা এবং সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও বাড়ে।

মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ বলেন, বর্তমান সময়ে কর্মীরা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ও চ্যালেঞ্জিং মুহূর্তগুলোতে নিয়োগদাতাদের পাশে পেতে চান। সহানুভূতিশীল ও মানবিক উদ্যোগ কর্মীদের আস্থা ও আনুগত্য বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।