ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৬, ৮:২৩ অপরাহ্ণ
ইরানের কেশম দ্বীপে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

হরমুজ প্রণালীর আশপাশে টহলরত মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার পর ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) স্থানীয় সময় রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, এ ধরনের হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ “অপরিহার্য” হয়ে উঠেছে।

রয়টার্সের দাবি অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালীর কেশম দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা চালানো হয় এবং প্রণালীর বন্দরনগরী সিরিকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়। প্রথম দফা হামলার কয়েক ঘণ্টা পরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলের জাস্ক ও বন্দর আব্বাস শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে কেশম দ্বীপেও নতুন করে বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়, যা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম তৃতীয় দফা হামলা হিসেবে উল্লেখ করেছে।

হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Abbas Araghchi এক্সে দেওয়া এক পোস্টে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ইরান কোনো ধরনের হামলা বা হুমকির জবাব না দিয়ে ছাড়বে না।

এদিকে, মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনের বরাতে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর আশপাশে ইরানের কয়েকটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও রাডার স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তা সিএনএনকে জানিয়েছেন, এই অভিযান যুদ্ধ থামানোর চলমান কূটনৈতিক আলোচনাকে বাধাগ্রস্ত করবে বলে ওয়াশিংটন মনে করে না। তাদের দাবি অনুযায়ী, এটি মূলত একটি “সতর্কবার্তা” হিসেবে পরিচালিত হয়েছে।

হামলার আগে ট্রাম্প একটি সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া হবে “খুবই শক্তিশালী”। এই মন্তব্যের পরপরই সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রুট হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে এ ধরনের সামরিক উত্তেজনা বৈশ্বিক তেল বাজার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনো পর্যন্ত স্বাধীনভাবে এসব হামলার পূর্ণাঙ্গ সত্যতা ও ক্ষয়ক্ষতির আনুষ্ঠানিক যাচাই পাওয়া যায়নি বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হচ্ছে।