লাল টেলিফোনের তার চুরির পর এবার মন্ত্রণালয়ের ল্যাপটপ চুরি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ১০, ২০২৬, ১২:০২ অপরাহ্ণ
লাল টেলিফোনের তার চুরির পর এবার মন্ত্রণালয়ের ল্যাপটপ চুরি

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর লাল টেলিফোনের তার চুরির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে একান্ত সচিবের ব্যবহৃত একটি ল্যাপটপ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সচিবালয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে সচিবালয়ের ১৬ তলায় অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে এইচপি ব্র্যান্ডের একটি ল্যাপটপ চুরি হয়। ল্যাপটপটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক) ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান শাকিলের একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের ব্যক্তিগত ব্যবহারের ছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, একই তলায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহাদী আমিন এবং প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের দপ্তরও অবস্থিত। মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, দুপুরে ইমামুল হাফিজ নাদিম প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খানের কক্ষে প্রবেশ করেন। প্রায় পাঁচ মিনিট পর নিজের কক্ষে ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, টেবিলে রাখা ল্যাপটপটি নেই।

সূত্রগুলোর দাবি, ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল এবং দপ্তরের বাইরে লোকজনের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি ও তল্লাশি চালানো হলেও ল্যাপটপটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর নিরাপত্তাকর্মীরা সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন একজন ব্যক্তিকে শনাক্ত করেন। ফুটেজে দেখা যায়, খয়েরি রঙের শার্ট ও ধূসর প্যান্ট পরিহিত আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক ব্যক্তি একটি কালো ব্যাগ নিয়ে দপ্তর এলাকা থেকে বের হয়ে যাচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ব্যাগেই চুরি হওয়া ল্যাপটপটি বহন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সূত্রের আশঙ্কা, ল্যাপটপটিতে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য ও নথি থাকতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, ভবনের ১৬ তলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা তুলনামূলক দুর্বল। প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক দর্শনার্থীর যাতায়াত থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর এলাকায় প্রবেশে কার্যকর নিয়ন্ত্রণ নেই। লিফট থেকে নেমেই নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই করিডোরে প্রবেশ করা সম্ভব হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

প্রবাসী কল্যাণ ভবনের নিরাপত্তা ইনচার্জ পিসি আশরাফুল আলম বলেন, ঘটনার পরপরই উপস্থিত ব্যক্তিদের ব্যাগ তল্লাশি করা হয়েছে। তবে পুরো ভবনের নিরাপত্তার জন্য মাত্র ২২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় কম। এরপরও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে একান্ত সচিব মো. ইমামুল হাফিজ নাদিমের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।