ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৪:৪৩ অপরাহ্ণ
ফিলিপাইনে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপের উপকূলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও দেড় শতাধিক মানুষ। দেশটির সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও কয়েকজন নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সোমবার (৮ জুন) ভোরে আঘাত হানা এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৮। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সকসারজেন অঞ্চল। সেখানেই উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ৩১টি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভূমিকম্পের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল সারঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। এর কম্পন পুরো মিন্দানাও দ্বীপজুড়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়। এমনকি প্রায় ৪২০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও কাঁপুনি টের পাওয়া যায়।

ভূমিকম্পের পরপরই দক্ষিণ ফিলিপাইন, উত্তর ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়ার বোর্নিও দ্বীপের সাবাহ রাজ্যে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ছয় ঘণ্টার বেশি সময় পর্যবেক্ষণের পর সুনামির আশঙ্কা কেটে গেলে সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়।

প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ ফিলিপাইন প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনা ঘটে। এর আগে গত বছর মধ্যাঞ্চলীয় সেবু দ্বীপের উপকূলে ৬ দশমিক ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে ৭৯ জন নিহত হন। এরপর দুই সপ্তাহের ব্যবধানে মিন্দানাও অঞ্চলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রাসহ আরও দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে।

সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য জরুরি সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো।