৩৪ তলায় কিনেছিলেন ফ্ল্যাট, পরে জানলেন ভবনই ৩২ তলা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
৩৪ তলায় কিনেছিলেন ফ্ল্যাট, পরে জানলেন ভবনই ৩২ তলা

চীনে এক অভিনব আবাসন প্রতারণার ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে এক ব্যক্তি ৩৪ তলার ফ্ল্যাট কিনলেও পরে জানতে পারেন ভবনটিই ছিল মাত্র ৩২ তলা। উত্তর-পশ্চিম চীনের শানসি প্রদেশের বাসিন্দা শেন পদবির ওই ব্যক্তি ২০১৩ সালে শি’আন শহরের নিকটবর্তী একটি গ্রামে একটি নবনির্মিত আবাসন প্রকল্পে ফ্ল্যাটটি কেনেন। তিনি ভবনের ৩৪ তলায় ৯০ বর্গমিটারের একটি ফ্ল্যাট কেনেন, যার প্রতি বর্গমিটার মূল্য ছিল ২ হাজার ৬৪৬ ইউয়ান।

স্থানীয় বাজারদরের তুলনায় অনেক কম দামে ফ্ল্যাটটি বিক্রি করা হয়। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর মোট মূল্য প্রায় ৪৮ লাখ টাকার সমান। কম দামের কারণ ছিল এটি রাষ্ট্রীয় অনুমোদনবিহীন ‘সীমিত সম্পত্তি অধিকার’ ধরনের একটি প্রকল্প, যা সাধারণত গ্রামীণ জমিতে আইনি অনুমোদন ছাড়াই নির্মাণ করা হয়।

শেন ২০১৩ সালে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭০০ ইউয়ান অগ্রিম পরিশোধ করেন। নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাকে আশ্বস্ত করেছিল যে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নথিপত্র সংগ্রহ করা হবে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেয়নি।

২০১৫ সালে ফ্ল্যাট হস্তান্তরের কথা থাকলেও নির্মাণকাজে দেরি হয়। পরে ২০১৭ সালে শেন জানতে পারেন, প্রকল্পের ভবনটিতে আসলে মাত্র ৩২টি তলা রয়েছে। অর্থাৎ তিনি যে ৩৪ তলার ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, সেটি বাস্তবে অস্তিত্বই নেই।

এরপর নির্মাতা প্রতিষ্ঠান তাকে ৩২ তলায় একটি বিকল্প ফ্ল্যাট দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও অর্থ পরিশোধে জটিলতার কারণে সেটি অন্য ক্রেতার কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। পরে শেন অর্থ ফেরতের দাবি জানালে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকটের কথা জানায় এবং পুরো অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থ হয়। ২০২০ সালে তিনি আংশিকভাবে ২০ হাজার ইউয়ান এবং ২০২২ সালে আরও ৫০ হাজার ইউয়ান ফেরত পান। এরপর প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

পরবর্তীতে তিনি সালিসি প্রক্রিয়ায় গেলে কর্তৃপক্ষ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানকে বাকি অর্থ ফেরত এবং অতিরিক্ত সুদ ও ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এক দশকেরও বেশি সময় পার হলেও শেন এখনো পুরো অর্থ ফেরত পাননি এবং কোনো ফ্ল্যাটও পাননি। এই ঘটনা আবারও চীনের কম দামের কিন্তু অনিয়ন্ত্রিত আবাসন প্রকল্পে বিনিয়োগের ঝুঁকি ও প্রতারণার বাস্তবতা সামনে নিয়ে এসেছে।