
সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক ও স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেওয়া হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে আপিলের পরবর্তী শুনানি ১৬ জুন নির্ধারণ করা হয়েছে। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় কার্যকর হবে না।
মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী-এর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, এবং রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল হাইকোর্ট ১৮৫ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রদান করে। বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চের রায়ে হাইকোর্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের সংশোধনী ও ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালা বাতিল করে। ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হয়।
২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সাতজন আইনজীবী সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ ও শৃঙ্খলাবিধির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে রিট দায়ের করেন। একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট রুল জারি করেন।
রিটকারীদের পক্ষে আইনজীবী জানান, সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর হলেও রাষ্ট্রপতি তা সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রয়োগ করবেন। তবে বাস্তবে রাষ্ট্রের নির্বাহী হস্তক্ষেপ দেখা যাওয়ায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল। ১৯৭৪ সালের চতুর্থ সংশোধনী ও পরে পঞ্চম সংশোধনীতে এই দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরবর্তীতে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে বর্তমান ১১৬ অনুচ্ছেদে তা প্রবর্তিত হয়েছে।
এই আপিলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন।
আপনার মতামত লিখুন :