
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যায়, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। দীর্ঘদিন ধরে প্ল্যাটফর্মের ছাউনি ক্ষতিগ্রস্ত, ইট উঠে গর্তের সৃষ্টি এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় গুরুত্বপূর্ণ এই স্টেশনটির অবকাঠামোগত সমস্যা দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।
ভৌগোলিক অবস্থান ও যাত্রী চলাচলের দিক থেকে আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন নওগাঁ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশন। জেলার তিনটি স্টেশনের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় ও ঐতিহ্যবাহী। স্টেশনটির ওপর দিয়ে ঢাকা-চিলাহাটি, ঢাকা-পঞ্চগড়, রাজশাহী-চিলাহাটি, রাজশাহী-পঞ্চগড় এবং খুলনা-চিলাহাটি রুটের একাধিক আন্তঃনগর ও মেইল ট্রেন চলাচল করে। প্রতিদিন শত শত যাত্রী এসব ট্রেনে যাতায়াতের জন্য স্টেশনটি ব্যবহার করেন।
তবে যাত্রীদের অভিযোগ, ট্রেনের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় তাদের নানামুখী ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে ওঠে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্ল্যাটফর্মের ছিদ্রযুক্ত টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়তে থাকে এবং পুরো প্ল্যাটফর্মে পানি জমে যায়। কয়েক বছর ধরে প্ল্যাটফর্মের উত্তর অংশের ছাউনি নষ্ট হয়ে থাকলেও তা মেরামতের উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এদিকে প্ল্যাটফর্মের ইট উঠে বিভিন্ন স্থানে গর্ত তৈরি হয়েছে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘসময় জমে থাকে। এতে যাত্রীদের দাঁড়িয়ে থাকাও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি সমস্যার সম্মুখীন হন। এছাড়া প্ল্যাটফর্মে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থাও নেই। ফলে ট্রেন বিলম্বিত হলে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয়।
স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতি মাসে লক্ষাধিক টাকা রাজস্ব আয় হয়। আয় বাড়লেও যাত্রীসেবার মানে তেমন উন্নয়ন না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
আত্রাই উপজেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক খোরশেদ আলম বলেন, “এত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্টেশনের উন্নয়ন না হওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। যাত্রীদের দুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত সংস্কার প্রয়োজন।”
নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও আত্রাই উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম রেজু বলেন, “আহসানগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনের বেহাল অবস্থা ও যাত্রীদের কষ্টের বিষয়টি আমার জানা আছে। স্টেশন সংস্কারের জন্য আমি জাতীয় সংসদে দাবি উত্থাপন করেছি এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছি। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ পাওয়া গেলে দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।”
বাংলাদেশ রেলওয়ে পশ্চিমাঞ্চলের চিফ ইঞ্জিনিয়ার আহম্মাদ হোসেন মাসুম জানান, স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও যাত্রী ছাউনি সংস্কারের জন্য কয়েক মাস আগে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল। তবে কোনো ঠিকাদার অংশ না নেওয়ায় সেই দরপত্র বাতিল করতে হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন করে দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং আগামী অর্থবছরের মধ্যেই সংস্কারকাজ সম্পন্ন করার চেষ্টা চলছে।
আপনার মতামত লিখুন :