বিশ্বকাপে খেলতে ৩০০ কেজি মাছ নিয়ে আমেরিকায় নরওয়ে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৩:৩৬ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপে খেলতে ৩০০ কেজি মাছ নিয়ে আমেরিকায় নরওয়ে

দীর্ঘ ২৮ বছর পর আবারও বিশ্বকাপ ফুটবলের মঞ্চে ফিরছে নরওয়ে জাতীয় ফুটবল দল। সর্বশেষ ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার পর টানা ছয় আসরে মূল পর্বে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হয়েছিল ইউরোপের এই দেশটি। অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসন্ন বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পেয়েছে আর্লিং হালান্ড ও মার্টিন ওডেগার্ডের নেতৃত্বাধীন দলটি।

বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকতেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে গেছে নরওয়ে দল। তবে মাঠে নামার আগেই ভিন্ন এক কারণে বিশ্বজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তারা। খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ ফিটনেস ও পারফরম্যান্স নিশ্চিত করতে এবার খাদ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে নরওয়ে ফুটবল ফেডারেশন। স্থানীয় খাবারের ওপর নির্ভর না করে নিজেদের দেশ থেকেই বিপুল পরিমাণ খাদ্যসামগ্রী নিয়ে গেছে দলটি।

জানা গেছে, নরওয়ে থেকে প্রায় ৩০০ কেজি তাজা লাল মাছ এবং ১১৬ কেজি ঐতিহ্যবাহী নরওয়েজিয়ান ব্রাউন চিজ নিয়ে যাওয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। খেলোয়াড়দের পরিচিত ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতেই এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দলের সঙ্গে রয়েছেন নরওয়ের দুই অভিজ্ঞ শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড ও এইরিক তুফতে। শেফ অ্যারন এর আগে ২০২০ সালের অলিম্পিকে নরওয়ে দলের রান্নার দায়িত্বে ছিলেন। তারা দুজন মিলে খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ খাদ্যতালিকা তৈরি করছেন, যাতে প্রতিটি খাবারই নির্দিষ্ট পুষ্টি চাহিদা পূরণ করে।

শেফ অ্যারন এসপেল্যান্ড বলেন, নরওয়ে থেকে এত দূরে প্রায় আধা টন খাদ্যসামগ্রী আনা সহজ ছিল না, তবে আমরা আমাদের দেশের উপকরণের গুণগত মানের ওপর আস্থা রাখি। তাই বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে খেলোয়াড়দের জন্য দেশের সেরা খাবারই নিশ্চিত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কোন কৃষক কোন উপাদান উৎপাদন করেছেন বা কোন উৎস থেকে মাছ এসেছে—এই নিশ্চয়তা থাকলে খাবারের ওপর আস্থা বাড়ে। নরওয়ের নিজস্ব উপকরণ ব্যবহার করতে পারাটা তাদের জন্য গর্বের বিষয়। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই নরওয়ের এই ব্যতিক্রমী প্রস্তুতি ফুটবল অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এখন সবার নজর থাকবে, মাঠের পারফরম্যান্সেও হালান্ড ও ওডেগার্ডরা এই বিশেষ প্রস্তুতির প্রতিফলন ঘটাতে পারেন কি না।