
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে শুরু হতে যাচ্ছে ফুটবল বিশ্বকাপ। ঠিক তার আগেই বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এবং বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো-এর বিরুদ্ধে দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা করেছেন ফ্রান্সের কিংবদন্তি ফুটবলার মিশেল প্লাতিনি। এতে বিশ্ব ফুটবলে নতুন করে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্যারিসে দায়ের করা দেওয়ানি মামলায় প্লাতিনি পূর্ণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। তার অভিযোগ, ফিফার অভ্যন্তরীণ কিছু সিদ্ধান্ত ও কৌশলের মাধ্যমে তাকে ২০১৬ সালের ফিফা সভাপতি নির্বাচনে অংশ নিতে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ও পেশাগত ক্ষতির মুখে পড়েছেন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে ফৌজদারি মামলায় ইনফান্তিনোর পাশাপাশি ফিফার সাবেক আইন পরিচালক মার্কো ভিলিগার এবং সাবেক অডিট কমিটির চেয়ারম্যান ডোমেনিকো স্কালার বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, তারা অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা পরিচালনা করেছেন এবং প্রভাব খাটিয়েছেন।
এই ঘটনার সূত্রপাত ২০১৫ সালের শেষ দিকে। তখন প্রকাশ পায়, ২০১১ সালে তৎকালীন সভাপতি সেপ ব্লাটার প্লাতিনিকে ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ প্রদান করেছিলেন। এরপর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়। পরে নৈতিকতার তদন্তের কারণে প্লাতিনি ফুটবল প্রশাসন থেকে সরে যেতে বাধ্য হন। সেই সময় ইনফান্তিনোর সামনে ফিফা সভাপতি নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পথ খুলে যায়।
পরবর্তীতে দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সুইস ফেডারেল ফৌজদারি আপিল আদালত প্লাতিনি ও ব্লাটারকে সব অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। পরে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সেই রায় চূড়ান্ত হয়। খালাস পাওয়ার পর প্লাতিনি দাবি করেন, তাকে পরিকল্পিতভাবে ফুটবল নেতৃত্ব থেকে দূরে রাখা হয়েছিল।
বর্তমানে সত্তর বছর বয়সী প্লাতিনি জানিয়েছেন, বয়সের কারণে তিনি আর ফুটবল প্রশাসনে ফিরতে চান না। তবে তিনি তদন্তকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন, পুরো ঘটনার সময়কার সিদ্ধান্ত ও প্রভাব খতিয়ে দেখা হোক।
এদিকে ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থা উয়েফা এবং ফিফার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি। বিশ্বকাপ শুরুর ঠিক আগে এই মামলা ফুটবল বিশ্বে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।
আপনার মতামত লিখুন :