বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমতে ও বাড়তে পারে


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৪:২৮ অপরাহ্ণ
বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমতে ও বাড়তে পারে

আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, জ্বালানি, চিকিৎসাসামগ্রী, প্রযুক্তিপণ্য এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে কর ও শুল্ক ছাড়ের প্রস্তাব আসতে পারে। এতে এসব পণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে বিলাসী পণ্য, কিছু আমদানিনির্ভর পণ্য, রড ও তামাকজাত দ্রব্যের ওপর কর ও শুল্ক বাড়ানোর পরিকল্পনা থাকায় সেগুলোর দাম বাড়তে পারে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করবেন। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার প্রায় ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা এবং সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ৬ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য:
চাল, ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ ও ভোজ্যতেলসহ প্রায় ৬০টি পণ্যে উৎসে কর কমিয়ে শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব রয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্কও প্রত্যাহার করা হতে পারে।

ভোজ্যতেল ও কৃষিপণ্য:
দেশীয় তৈলবীজ থেকে উৎপাদিত ভোজ্যতেলে ১০ বছরের কর অব্যাহতি দেওয়া হলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত তেলের দাম কমতে পারে।

জ্বালানি তেল:
রিফাইনারি পর্যায়ে উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব থাকায় জ্বালানি তেলের বাজারেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

চিকিৎসাসামগ্রী ও ওষুধ:
কিডনি ডায়ালাইসিস ফিল্টার, হার্টের রিং, চোখের লেন্স এবং ওষুধের কাঁচামালে কর ও ভ্যাট ছাড়ের প্রস্তাব রয়েছে, যা চিকিৎসা ব্যয় কমাতে সহায়ক হতে পারে।

মোবাইল ও প্রযুক্তিপণ্য:
স্থানীয় মোবাইল উৎপাদনের কাঁচামালে কর কমানো, সিম সংক্রান্ত কর বাতিল এবং কম্পিউটারসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিপণ্যে আমদানি কর কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি:
বিদ্যুৎ উৎপাদনে উৎসে কর কমানোর পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি কর অব্যাহতির প্রস্তাব রয়েছে।

বিদ্যুৎচালিত যানবাহন:
চার্জিং স্টেশন, বাস ও ট্রাকে কর শূন্য করার এবং নিবন্ধন ফি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।

যেসব পণ্যের দাম বাড়তে পারে

তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্য:
সিগারেট ও নিকোটিন পাউচে উচ্চ হারে সম্পূরক শুল্ক আরোপের ফলে দাম বাড়তে পারে।

রড ও নির্মাণসামগ্রী:
রড ও ইস্পাতজাত পণ্যে ভ্যাট ও কর বৃদ্ধির প্রস্তাব থাকায় নির্মাণ ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিলাসী পণ্য:
বিদেশি প্রসাধনী, উচ্চমূল্যের খাদ্যপণ্যসহ বিভিন্ন বিলাসী সামগ্রীর ওপর সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ পর্যন্ত ভ্যাট আরোপ করা হতে পারে।

কাজুবাদাম ও হিমায়িত মাছ:
কাজুবাদামের আমদানি শুল্ক উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর পাশাপাশি হিমায়িত মাছ আমদানিতেও ভ্যাট বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে।

প্রস্তাবিত এসব কর ও শুল্ক পরিবর্তনের মাধ্যমে একদিকে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর চাপ কমানো এবং অন্যদিকে বিলাসী ভোগ নিরুৎসাহিত করে রাজস্ব আয় বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।