আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিফ প্রসিকিউটর বরখাস্ত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৯, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের চিফ প্রসিকিউটর বরখাস্ত

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রধান কৌঁসুলি করিম খান-কে যৌন অসদাচরণের অভিযোগের তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) আদালতের পরিচালনাকারী সংস্থা রোম সংবিধির সদস্য রাষ্ট্রসমূহের পরিষদীয় ব্যুরো এ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে করিম খানের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হবে। বিষয়টি নিয়ে আইসিসির ১২৫টি সদস্য রাষ্ট্রের সামনে আলোচনা হবে। তবে তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে না।

ব্যুরোর এক বিবৃতিতে বলা হয়, জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ তদারকি সেবা দপ্তরের তদন্ত প্রতিবেদন, সংশ্লিষ্ট প্রমাণ, বিচারিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং বিভিন্ন লিখিত উপস্থাপনা পর্যালোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া সিদ্ধান্তসংক্রান্ত নথিপত্র গোপন রাখা হবে বলেও জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা, আইনি অধিকার এবং চলমান প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও অখণ্ডতা রক্ষার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন দ্রুত আয়োজন করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে করিম খান বরাবরই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আসছেন। তিনি বলেছেন, তদন্তে তার বিরুদ্ধে কোনো অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনের ১৩৭টি পর্যবেক্ষণের কোথাও তার অনুপযুক্ত আচরণের প্রমাণ উল্লেখ নেই।

এদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মার্চে তিন বিচারকের একটি প্যানেলও তদন্তে করিম খানের বিরুদ্ধে অসদাচরণ বা দায়িত্বে অবহেলার সুস্পষ্ট প্রমাণ পায়নি বলে মত দিয়েছিল।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের নভেম্বরে আইসিসির এক কর্মীর করা যৌন অসদাচরণের অভিযোগের পর আদালতের পরিচালনাকারী সংস্থার নির্দেশে তদন্ত শুরু হয়। এর আগে একই বছরের মে মাসে করিম খান গাজায় কথিত যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং ইয়োয়াভ গ্যালান্ট-এর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করার ঘোষণা দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনায় আসেন। তদন্তের চূড়ান্ত ফলাফল এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সিদ্ধান্তের ওপরই এখন নির্ভর করছে করিম খানের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব পালন।