বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন আজ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৮, ২০২৬, ১২:০৪ অপরাহ্ণ
বিজিবি-বিএসএফ সীমান্ত সম্মেলন আজ

বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ‘পুশ-ইন’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার মধ্যেই আজ সোমবার (৮ জুন) শুরু হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনব্যাপী সীমান্ত সম্মেলন। বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই দুই বাহিনীর মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত বৈঠক।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে নারী, শিশুসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিজিবির দাবি, তাদের তৎপরতায় এমন বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। এ ঘটনাগুলোকে কেন্দ্র করে সীমান্ত নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিজিবি জানিয়েছে, এবারের সম্মেলনে সীমান্ত হত্যা ও ‘পুশ-ইন’ ইস্যু সবচেয়ে গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকার নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগও তুলে ধরা হবে।

বিজিবি সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ থেকে ৬ জুন পর্যন্ত মাত্র চার দিনে বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুই শতাধিক ব্যক্তিকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যা বিজিবি প্রতিহত করেছে। এসব ঘটনার বিস্তারিত তথ্য সম্মেলনে উপস্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া ২০২৫ সালের মে থেকে ২০২৬ সালের মে পর্যন্ত অন্তত দুই হাজারের বেশি মানুষকে সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে। বিজিবির দাবি, এসব ব্যক্তির মধ্যে ভারতীয় নাগরিক ও রোহিঙ্গাও রয়েছে। কোনো ধরনের কূটনৈতিক প্রক্রিয়া বা নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া এ ধরনের পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী বলেও উল্লেখ করেছে বাংলাদেশ।

অন্যদিকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের দাবি, ফেরত পাঠানো ব্যক্তিরা বাংলাদেশি নাগরিক। তবে বাংলাদেশের অবস্থান হলো, যথাযথ যাচাই-বাছাই ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া কাউকে গ্রহণ করা হবে না।

সম্মেলনে বিজিবি মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অংশ নিচ্ছে। প্রতিনিধি দলে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার কর্মকর্তারাও রয়েছেন। অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালকের নেতৃত্বে ভারতীয় প্রতিনিধি দলে দেশটির স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, সীমান্তে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই সম্মেলন দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা, অবৈধ অনুপ্রবেশ, মানবপাচার এবং পুশ-ইন ইস্যুতে কার্যকর সমঝোতা অর্জনের দিকে নজর থাকবে উভয় দেশের।