রাতে একই জায়গায় ৩ বার ভূমিকম্প, কারণ কী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৮, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
রাতে একই জায়গায় ৩ বার ভূমিকম্প, কারণ কী

ভুটানে পরপর তিন দফা ভূমিকম্পের ঘটনায় কেঁপে উঠেছে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকা। রোববার (৭ জুন) দিবাগত রাতে অনুভূত হওয়া এসব ভূমিকম্পের মধ্যে প্রথমটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী। এর প্রভাব দেশের উত্তরাঞ্চল থেকে শুরু করে ঢাকাসহ মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় অনুভূত হয়। আকস্মিক কম্পনে আতঙ্কিত হয়ে অনেক মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

ভারতের জাতীয় ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ১১টা ৩৭ মিনিটে ভুটানের রাজধানী থিম্পুর উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ২৪ কিলোমিটার গভীরে ৫ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। তবে বাংলাদেশের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬।

প্রথম ভূমিকম্পের পর দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় বেশ জোরালো কম্পন অনুভূত হয়। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই কম্পনে অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে বাসা ও ভবন থেকে বের হয়ে খোলা জায়গায় অবস্থান নেন। রাজধানী ঢাকা এবং আশপাশের এলাকাতেও ভূমিকম্পের ঝাঁকুনি অনুভূত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির প্রভাব বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চল অতিক্রম করে কক্সবাজার পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ফলে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ একই সময়ে কম্পন অনুভব করেন।

প্রথম ভূমিকম্পের ১১ মিনিট পর রাত ১১টা ৪৮ মিনিটে একই এলাকায় ২ দশমিক ৮ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়। এরপর দ্বিতীয় কম্পনের ৩৪ মিনিট পর, অর্থাৎ রাত ১২টা ২২ মিনিটে ২ দশমিক ৪ মাত্রার আরও একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তিন দফা ভূমিকম্প হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করছে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একই এলাকায় ছোট মাত্রার কম্পন দেখা দেওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। এ ধরনের কম্পনকে পরাঘাত বলা হয়। মূল ভূমিকম্পের পর ভূত্বকের অভ্যন্তরে চাপের পুনর্বিন্যাসের ফলে এসব পরাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। এদিকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জনগণকে আতঙ্কিত না হয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি ভূমিকম্পের সময় ও পরে নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে সম্ভাব্য ঝুঁকি ও ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।