ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, দায়ী আগের সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুন ৮, ২০২৬, ৬:৪১ অপরাহ্ণ
ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, দায়ী আগের সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

গত পাঁচ বছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বেড়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। একই সঙ্গে তিনি এ ঘাটতির জন্য আগের সরকারের ভুল নীতিকে দায়ী করেন।

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদে চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য জসীম উদ্দিন আহমেদের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী। মন্ত্রী জানান, ভারতের পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে আফগানিস্তান, ভুটান ও পাকিস্তানের সঙ্গেও বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে। তার মতে, আগের সরকারের ভুল নীতির পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং ডলার সংকট বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

তিনি বলেন, জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামাল আমদানিতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং রপ্তানির তুলনায় আমদানির দ্রুত প্রবৃদ্ধির ফলে বাণিজ্য ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২০-২১ অর্থবছরে দেশের বাণিজ্য ঘাটতি ছিল ১৬ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। পরবর্তী অর্থবছরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২৮ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে ঘাটতি ছিল ২৭ দশমিক ১৮ বিলিয়ন ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২১ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ২৪ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়।

একই সময়ে দেশের রপ্তানি আয় ও আমদানি ব্যয়ের তথ্যও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, গত পাঁচ বছরে রপ্তানি আয় ৪৫ থেকে ৬০ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করলেও আমদানি ব্যয় ধারাবাহিকভাবে উচ্চ পর্যায়ে ছিল, যা বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে।

বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান বাণিজ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশ ২০২টি দেশে পণ্য রপ্তানি করছে। তবে মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশই তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। এ নির্ভরতা কমিয়ে রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে চামড়া, পাট, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, হিমায়িত খাদ্য ও প্লাস্টিক খাতে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে।

এছাড়া ‘ওয়ান ডিস্ট্রিক্ট ওয়ান প্রোডাক্ট (ওডিওপি)’ কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলার সম্ভাবনাময় পণ্য চিহ্নিত করে রপ্তানি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মালয়েশিয়া, তুরস্ক, নিউজিল্যান্ড ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সম্পাদনের কার্যক্রমও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।