কিলোমিটারে ভাড়া বেড়েছে ১১ পয়সা, যাত্রীপ্রতি বেড়েছে ৫০ টাকা


মাদারীপুর জেলা প্রতিনিধি, প্রণব কুমার সাহা প্রকাশের সময় : জুন ৮, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
কিলোমিটারে ভাড়া বেড়েছে ১১ পয়সা, যাত্রীপ্রতি বেড়েছে ৫০ টাকা

শিবচর থেকে ঢাকা (গুলিস্তান) রুটে চলাচলকারী আনন্দ পরিবহনের ভাড়া ২০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫০ টাকা নির্ধারণ করায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ভাড়া বৃদ্ধির তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে আন্তঃজেলা বাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২ টাকা ২৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়। অর্থাৎ প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ১১ পয়সা।

শিবচর থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত প্রায় ৬৭ কিলোমিটার পথের হিসেবে নতুন হার অনুযায়ী যাত্রীপ্রতি অতিরিক্ত ভাড়া হওয়ার কথা প্রায় ৭ টাকা ৩৭ পয়সা। কিন্তু আনন্দ পরিবহন পূর্বের ২০০ টাকার পরিবর্তে বর্তমানে ২৫০ টাকা ভাড়া আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

হিসাব অনুযায়ী, ৬৭ কিলোমিটার দূরত্বে সরকার নির্ধারিত মূল ভাড়া দাঁড়ায় প্রায় ১৪৯ টাকা ৪১ পয়সা। এর সঙ্গে পদ্মা সেতুর ২ হাজার টাকা এবং ধলেশ্বরী সেতুর ২৯৫ টাকা টোল যোগ করলে মোট টোল হয় ২ হাজার ২৯৫ টাকা। ৫২ আসনের একটি বাস পূর্ণ যাত্রী বহন করলে যাত্রীপ্রতি টোলের অংশ দাঁড়ায় প্রায় ৪৪ টাকা ১৩ পয়সা। সে হিসাবে মোট ভাড়া হওয়া উচিত প্রায় ১৯৩ টাকা ৫৪ পয়সা।

এ অবস্থায় বর্তমান ২৫০ টাকা ভাড়া আদায়ের ফলে যাত্রীপ্রতি প্রায় ৫৬ টাকা ৪৬ পয়সা অতিরিক্ত নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

নিয়মিত যাত্রী মো. আব্দুল কাদের বলেন, জ্বালানির দাম বাড়ার কারণে কিছুটা ভাড়া বৃদ্ধি স্বাভাবিক হলেও কিলোমিটারপ্রতি মাত্র ১১ পয়সা বৃদ্ধির বিপরীতে ৫০ টাকা ভাড়া বাড়ানোর যৌক্তিকতা স্পষ্ট নয়।

আরেক যাত্রী নাজমুল ইসলাম জানান, নিয়মিত ঢাকা যাতায়াত করতে গিয়ে এখন আগের তুলনায় বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি করছে।

এ বিষয়ে আনন্দ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার রেজাউল গোমস্তা বলেন, নতুন ভাড়া চার্ট এখনও তাদের হাতে পৌঁছায়নি। তবে সব সময় বাস পূর্ণ যাত্রী নিয়ে চলাচল না করায় পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধি পায়। তাদের হিসাবে যাত্রীপ্রতি ব্যয় প্রায় ২৩৫ টাকা পড়ে। এছাড়া খুচরা অর্থ ফেরত দেওয়ার জটিলতার কারণেও ২৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

যাত্রীদের অভিযোগ, ভাড়া নির্ধারণে স্বচ্ছতার অভাব এবং কার্যকর তদারকির ঘাটতির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তারা বিআরটিএ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ভাড়া নির্ধারণ এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে স্থানীয়দের প্রশ্ন, সরকার নির্ধারিত হিসাবে যাত্রীপ্রতি ভাড়া বৃদ্ধি যেখানে ৭ টাকার কিছু বেশি, সেখানে ৫০ টাকারও বেশি ভাড়া বৃদ্ধির ভিত্তি কী? একই সঙ্গে ঈদ ও অন্যান্য উৎসবের সময়ে এই রুটে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগেরও সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন তারা।